যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম অপরিবর্তিত অবস্থায় রয়েছে। গত সোমবার এক মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছিল মূল্যবান এই ধাতুটির দাম। তবে মঙ্গলবার দাম পুনরুদ্ধার করতে পারেনি। বাংলাদেশের স্থানীয় সময় ১১টা দিকে স্পট গোল্ডের দাম ছিল প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩০২ দশমিক ১৩ ডলার। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচার ০.২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৪১ দশমিক ৭০ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা সোমবার ৭ আগস্টের পর সর্বনিম্ন স্তর নির্দেশ করে।
দুই দিনের বৈঠক শেষে বুধবার সুদের হার নিয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে ফেড। বাজারে ব্যাপকভাবে প্রত্যাশা করা হচ্ছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকটি সুদের হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৩.৭৫ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে নিয়ে যাবে। এই সিদ্ধান্ত স্বর্ণের দামের কাছে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ, কারণ উচ্চ সুদের হার সাধারণত স্বর্ণের চাহিদায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্লেষকদের সুপ্রেরণা: বক্তব্যই নির্ধারণ করবে ভবিষ্যৎ দিক
তবে বিশ্লেষকদের মতে, সুদের হার বাড়ানোর চেয়ে ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের বক্তব্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তিনি যদি ধারাবাহিকভাবে সুদের হার বাড়ানোর ইঙ্গিত দেন, তাহলে স্বর্ণের দামে চাপ তৈরি হতে পারে। বিপরীতে, ধীরে ও পরিমিত গতিতে নীতি কঠোর করার ইঙ্গিত দিলে তা স্বর্ণের জন্য ইতিবাচক হতে পারে। সাধারণত মূল্যস্ফীতি ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির বিরুদ্ধে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ে, তবে সুদের হার বাড়লে কোনো সুদ না দেওয়া স্বর্ণে বিনিয়োগের সুযোগ-ব্যয়ও বেড়ে যায়, ফলে উচ্চ সুদের পরিবেশে স্বর্ণের আকর্ষণ কমতে পারে।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও নাটকীয় পরিবর্তন ঘটেনি। মূল্যবান ধাতুর মধ্যে রুপার দাম ছিল প্রতি আউন্স ৬৩ দশমিক ২৫ ডলার। প্লাটিনামের দাম ০.৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৭৭০ দশমিক ৮১ ডলারে দাঁড়িয়েছে, অন্যদিকে প্যালাডিয়ামের দাম ০.৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ২৮৮ দশমিক ২৫ ডলারে নেমেছে। বাজারের প্রান্তিক পর্যবেক্ষকেরা এখনও ফেডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন, যা স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণ করবে।



