বন্ধের প্রক্রিয়ায় থাকা ব্যাংকবহির্ভূত চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (এনবিএফআই) ব্যক্তি আমানতকারীদের জমা টাকা ফেরত দিতে একটি সুনির্দিষ্ট স্কিম তৈরি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, প্রাথমিকভাবে প্রতিটি আমানতকারী তাঁর মূল জমার সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা পূর্ণ মূল্যেফুরত পাবেন।
আমানতের অঙ্ক অনুযায়ী ফেরতের নিয়ম
আমানতের পরিমাণ ৫০ লাখ টাকা হলে সেই অঙ্গ পর্যন্ত মূল টাকা ফেরত দেওয়া হবে। তবে ৫০ লাখ টাকার বেশি জমা থাকলে সেই বেশি অংশ নির্ধারিত হারে হ্রাস করে পুনরায় ফেরত দেওয়া হবে। ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত আমানতের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৮০ লাখ টাকা পাওয়া যাবে।
এক কোটি থেকে দেড় কোটি টাকা পর্যন্ত আমানত থাকলে প্রথম ১ কোটি টাকার জন্য ৮০ লাখ টাকা এবং অতিরিক্ত অংশের ৫০ শতাংশ ফেরত পাওয়া যাবে। তাই ১ কোটি ২০ লাখ টাকা আমানতকারী প্রাপ্তির জন্য ৮০ লাখ এবং বাকি ২০ লাখ টাকার অর্ধেক পাবেন—মোট ৯০ লাখ টাকা। দেড় কোটি থেকে ২ কোটি টাকার মধ্যে আমানত থাকলে প্রথম দেড় কোটির বিপরীতে ১ কোটি ৫ লাখ টাকা এবং অতিরিক্ত অংশের ৪০ শতাংশ ফেরত দেওয়া হবে। যেমন, ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা জমা থাকলে আমানতকারী ১ কোটি ১৭ লাখ টাকা পাবেন।
আমানত ২ কোটি টাকা বা তার বেশি হলে প্রথম ২ কোটি টাকার জন্য সর্বোচ্চ ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা এবং বাকি অংশের ৩০ শতাংশ ফেরত দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। সেই হিসাবে ৩ কোটি টাকা আমানত থাকলে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকার সঙ্গে অতিরিক্ত ১ কোটি টাকার ৩০ শতাংশ যোগ করে মোট ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা পাওয়া যাবে।
কার আমানত ফেরত পাওয়া যাবে
এই স্কিমের আওতায় থাকা চারটি প্রতিষ্ঠান হলো আভিভা ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, এফএএস ফাইন্যান্স ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিং। গত ৯ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংক এসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদকে বিলুপ্ত ঘোষণা করে এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ শূন্য রাখে। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে তাঁদের সহায়তার জন্য অতিরিক্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে।
চার প্রতিষ্ঠানে মোট ১২ হাজার ৪৮৩ কোটি টাকা আমানত রয়েছে। এর মধ্যে আভিভা ফাইন্যান্সে ৫ হাজার ৩৬৮ কোটি, ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ে ৩ হাজার ১২ কোটি, এফএএস ফাইন্যান্সে ১ হাজার ২৪৬ কোটি এবং ফারইস্ট ফাইন্যান্সে ৪৪৯ কোটি টাকা জমা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোতে খেলাপি ঋণের হার ৯৩ শতাংশ থেকে প্রায় ১০০ শতাংশে উঠে যাওয়ায় বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।




