সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধা ও যোগ্যতার পরিবর্তে রাজনৈতিক পরিচয়, সুপারিশ এবং প্রভাবশালী নেতার সংস্কৃতির প্রভাব বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী শনিবার একটি ফেসবুক পোস্টে এ প্রসঙ্গে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, একজন যোগ্য ও পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীকে চাকরি পেতে হলে পরিবারের রাজনৈতিক পরিচয়, এলাকার প্রভাব বা নেতার সুপারিশের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে—এমন পরিস্থিতি নিয়োগব্যবস্থার নীতিভঙ্গের ইঙ্গিত দেয়।
পাটওয়ারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া নিয়ে বিশেষভাবে কথা বলেন। তাঁর দাবি, লিখিত পরীক্ষা, মৌখিক পরীক্ষা এবং প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হওয়ার পরও ভেরিফিকেশনের কারণে বিভিন্ন জেলার অনেক প্রার্থী বাদ পড়েছেন। তিনি বাদ পড়া প্রার্থীর সংখ্যা অন্তত এক হাজার বলে জানান। নিয়োগের শুরুতে নির্বাচিত প্রার্থীদের ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশনে নাশকতা, সন্ত্রাসী, জঙ্গি বা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার মতো বিষয়গুলোকে অনুপযুক্ততার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল বলে তিনি জানান।
অন্যদিকে, ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি নিয়োগে ভাইভার নম্বর বাড়ানোর উদ্যোগকেও তিনি সমালোচনা করেছেন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভাইভার নম্বর ১০ থেকে ৫০ করা পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে বলে তিনি জানান। সরকারের যুক্তি এতে দক্ষ ও উপযুক্ত জনবল নির্বাচন করা হবে। তবে পাটওয়ারী মনে করেন, এ ধরনের পরিবর্তন রাজনৈতিক চাপ, লবিং ও স্বজনপ্রীতির সুযোগ বাড়াতে পারে। ফলে মৌখিক পরীক্ষায় যোগ্যতা যাচাই হওয়ার পরও পরিচয় ও প্রভাবের প্রভাব থেকে যেতে পারে।
এই প্রসঙ্গে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের সাম্প্রতিক বক্তব্যকেও উল্লেখ করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তাঁর দাবি, লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ চাকরিপ্রার্থীদের উদ্দেশ্য ওই সংসদ সদস্য বলেছেন, তারা অ্যাডমিট কার্ড নিয়ে গেলে প্রয়োজনীয় জায়গায় ফোন করে দেবেন। এ ধরনের বক্তব্য প্রার্থীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলার সঙ্গে সঙ্গে যে সম্ভাবনা তৈরি করেছে, তা নিয়ে তিনি রাজনৈতিক পরিচয় ও সুপারিশের প্রভাবের দিকেই ইঙ্গিত দিয়েছেন।
নিয়োগব্যবস্থার সংস্কারের দাবি জানিয়ে পাটওয়ারী বলেন, চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে একজন তরুণের সবচেয়ে বড় পরিচয় হওয়া উচিত তার মেধা ও যোগ্যতা—তার বাবার রাজনৈতিক পরিচয়, এলাকার প্রভাবশালী নেতা বা কোনো সুপারিশের ফোন নয়। তিনি আরও মনে করিয়ে দেন, একজন চাকরিপ্রার্থী নিশ্চিন্তে বলতে পারেন যে তিনি কারও লোক নন; পরীক্ষায় ভালো করেছেন এবং চাকরিটি তাঁর প্রাপ্য। সংবাদটি প্রকাশের সময় তাঁর দাবিগুলো নিয়ে স্বতন্ত্রভাবে যাচাইয়ের তথ্য সেখানে উল্লেখ করা হয়নি।




-6ab89f23c1317.jpg)

