রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১২ই আশ্বিন, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

রাজনীতি

চাকরি পেতে নেতার ফোন কেন, প্রশ্ন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর

সরকারি নিয়োগে মেধার বদলে রাজনৈতিক সুপারিশ ও প্রভাবশালী নেতার সংস্কৃতির প্রসঙ্গ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেছেন, চাকরিপ্রার্থীদের যোগ্যতা ও পরীক্ষার ফলকেই নিয়োগের একমাত্র মাপকাঠি হওয়া উচিত।

র
রাহুল হাসান· প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৫ পিএমসর্বশেষ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৫ পিএম
চাকরি পেতে নেতার ফোন কেন, প্রশ্ন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর

সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধা ও যোগ্যতার পরিবর্তে রাজনৈতিক পরিচয়, সুপারিশ ও প্রভাবশালী নেতার ফোনের ওপর নির্ভরশীলতার প্রসঙ্গ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। শনিবার এক ফেসবুক পোস্টে তিনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে ভেরিফিকেশনের কারণে প্রার্থী বাদ পড়া এবং ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিতে ভাইভার নম্বর বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

পাটওয়ারীর দাবি, সহকারী শিক্ষক নিয়োগে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার ধাপ পেরিয়ে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পরও ভেরিফিকেশনের কারণে বিভিন্ন জেলার অন্তত এক হাজার প্রার্থী বাদ পড়েছেন। তিনি বলেন, নিয়োগের শুরুতে নির্বাচিত প্রার্থীদের পুলিশ ভেরিফিকেশনের শর্তে নাশকতা, সন্ত্রাসী, জঙ্গি বা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণকে অনুপযুক্ততার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।

১১ থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিতে ভাইভার নম্বর বাড়ানোর পরিকল্পনার সমালোচনা করে পাটওয়ারী বলেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভাইভার নম্বর ১০ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করার প্রস্তাব রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে দক্ষ ও উপযুক্ত জনবল বাছাইয়ের উদ্দেশ্য বলা হলেও তাঁর মতে, এতে রাজনৈতিক প্রভাব, লবিং ও স্বজনপ্রীতির সুযোগ বাড়তে পারে। এই প্রসঙ্গে তিনি কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের সাম্প্রতিক বক্তব্যও উল্লেখ করেন।

ফজলুর রহমান বলেছেন, লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ চাকরিপ্রার্থীরা অ্যাডমিট কার্ড নিয়ে গেলে প্রয়োজনীয় জায়গায় ফোন করে দেবেন। এর বরাবরে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রশ্ন করেছেন, পরীক্ষায় উত্তীর্ণ একজন তরুণের চাকরি পেতে অ্যাডমিট কার্ড বহন করে নেতার কাছে যেতে হবে কি না। তিনি বলেছেন, এ ধরনের অনুরোধ ও সুপারিশের সংস্কৃতি শুধু একজন ব্যক্তির নিয়োগকে নয়, পুরো নিয়োগব্যবস্থাকে বৈষম্যমূলক করে তুলতে পারে।

নিয়োগব্যবস্থার সংস্কারের দাবি তুলে পাটওয়ারী বলেন, একজন চাকরিপ্রার্থী যেন নিশ্চিন্তে বলতে পারেন, ‘আমি কারও লোক নই। আমি পরীক্ষায় ভালো করেছি। চাকরিটা তাই আমার প্রাপ্য।’ তাঁর মতে, চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রার্থীর সবচেয়ে বড় পরিচয় হওয়া উচিত তার মেধা ও যোগ্যতা—তার বাবার রাজনৈতিক পরিচয়, এলাকার প্রভাবশালী নেতা বা কোনো সুপারিশকারীর ফোন নয়।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📬 প্রতিদিনের বাছাইকৃত খবর সরাসরি ইমেইলে পান

আমাদের বিনামূল্যে নিউজলেটার সাবস্ক্রাইব করুন

সাবস্ক্রাইব করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
র

রাহুল হাসান

প্রতিবেদক

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, ডেইলি বরিশাল। সাংবাদিকতায় ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ