বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
৯ই আশ্বিন, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

অর্থনীতি ও বাণিজ্য

সর্বজনীন পেনশনে শরিয়াহভিত্তিক পদ্ধতির প্রয়োগযোগ্যতা ও চ্যালেঞ্জ

সরকার বর্তমান চারটি স্কিমের পাশাপাশি শরিয়াহভিত্তিক পদ্ধতি চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, গ্রাহকদের আস্থা অর্জন ও আর্থিক স্থায়িত্ব নিয়ে এখনও প্রশ্নোত্তর চলছে।

রাহুল হাসান· প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২:৫৩ অপরাহ্ণসর্বশেষ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২:৫৩ অপরাহ্ণ
সর্বজনীন পেনশনে শরিয়াহভিত্তিক পদ্ধতির প্রয়োগযোগ্যতা ও চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশে সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিতে শরিয়াহভিত্তিক পদ্ধতি চালু করতে সরকারের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের চতুর্থ বৈঠকে গত ১৭ সেপ্টেম্বর এই প্রস্তাব অনুমোদন হয়। বিদ্যমান চারটি স্কিম থাকা সত্ত্বেও শরিয়াহভিত্তিক পদ্ধতি চালুর প্রয়োজনীয়তা ও কার্যকারিতা নিয়ে নানা প্রশ্ন সামনে ওঠছে।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) শেখ কামরুল হাসান বলেছেন, শরিয়াহভিত্তিক স্কিম কোনো আলাদা পঞ্চম স্কিম নয়, বরং বিদ্যমান চারটি স্কিমেরই ইসলামিক ভার্সন। তিনি আরও বলেছেন, প্রবাদ, প্রগতি, সুরক্ষা ও সমতা স্কিমের প্রতিটিতে শরিয়াহ পদ্ধতি ও প্রচলিত মুনাফা পদ্ধতি দুটোই থাকবে। গ্রাহকের সামনে দুটি অপশন থাকবে—সুদ নেওয়া পছন্দ না হলে শরিয়াহ পদ্ধতি বেছে নিতে পারবেন।

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ও স্থানীয় পরামর্শকদের সহযোগিতায় শরিয়াহভিত্তিক পদ্ধতির কাঠামো, পরিচালন পদ্ধতি, বিনিয়োগ ব্যবস্থা ও কারিগরি বিষয় নির্ধারণ করা হচ্ছে। এর আর্থিক স্থায়িত্ব ও দীর্ঘমেয়াদি দায়-দায়িত্ব নিড়্ণয়ের বিষয়টি নিয়েও বিশ্লেষণ করা হবে। আলাদা কোনো শরিয়াহ বোর্ড গঠন ও সুকুক বন্ডসহ বিনিয়োগের জায়গায় এখনও পর্যালোচনা চলছে।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে চালু হওয়া সর্বজনীন পেনশনের চারটি স্কিমে মোট নিবন্ধিত গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় তিন লাখ ৮০ হাজার। এতে মোট জমা হওয়া প্রায় ৩২০ কোটি ৩০ লাখ টাকা সরকারি ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ করা হয়েছে। চারটি স্কিমের মধ্যে সমতা স্কিমে সর্বোচ্চ দুই লাখ ৮৭ হাজার ২২৪ জন নিবন্ধন করলেও বাকি তিনটিতে নিবন্ধনকারীর সংখ্যা তুলনামূল্যে কম।

যদিও শরিয়াহভিত্তিক পদ্ধতি চালুর পেছনে সাধারণ মানুষের আগ্রহ বাড়াতে ও আর্থিক নিরাপত্তা বৃদ্ধির লক্ষ্য আছে, তবে অর্থনীতিবিদদের কাছে এর ফান্ড বিনিয়োগের মডেল ও গ্রাহকদের আর্থিক নিরাপত্তা সম্পর্কে এখনও প্রশ্নোত্তর রয়েছে। ভবিষ্যতে গ্রাহকদের আস্থা অর্জন ও আর্থিক স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিগত ও আইনগত ভিত্তি শক্তিশালী করতে প্রয়োজন।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗

রাহুল হাসান

প্রতিবেদক

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, দৈনিক প্রতিদিন। সাংবাদিকতায় ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ