মালয়েশিয়ায় ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার সময় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ইমরান হোসাইন ওরফে উজ্জল সিকদার (২৭)। ২ অক্টোবর শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ৮টার দিকে পেরাকের ইপো আয় টাওয়ার এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তিনি এবং তার সহকর্মী আরমান শেখ ঘটনাস্থলেই মারা যান। ইমরান সেপ্টেম্বর ২০২৪ সালে সাত বছর মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরে আসেন, অক্টোবরে তার মায়ের পছন্দের মেয়ে লামিকে বিয়ে করেন এবং তিন মাস পর আবারও মালয়েশিয়ায় যান, যেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
ইমরান সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের কাঠিয়ার গট্টি গ্রামের কৃষক কালাম সিকদারের ছেলে এবং দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে বড় ছিলেন। তিনি ২০১৭ সালে ১৮ বছর বয়সে পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান এবং একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অধীনে বিভিন্ন এলাকায় ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার কাজ করতেন। প্রবাসে থাকাকালীন তিনি নিয়মিত পরিবারের কাছে টাকা পাঠাতেন, যা ধীরে ধীরে তার পরিবারের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটে এবং তার বাবা কৃষিকাজের পাশাপাশি নার্সারির ব্যবসা শুরু করেন। ইমরান প্রায় প্রতিদিন বাবা-মা ও স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতেন এবং দেশে ফিরে স্থায়ীভাবে বসবাস করার ইচ্ছা প্রকাশ করতেন। তার পরিবার জানায়, আগামী দুই মাসের মধ্যে মালয়েশিয়ার কাজ ছেড়ে দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছিলেন তিনি।
ইমরানের দুর্ঘটনার পর পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের সহায়তা এবং তার কর্মপ্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছে। তার বাবা কালাম সিকদার ছেলের জন্য শেষবারের মতো দাফন করতে চান এবং দ্রুত মরদেহ দেশে ফেরানোর অনুরোধ করেছেন। সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দবির উদ্দিন জানিয়েছেন, মরদেহ দ্রুত দেশে আনার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সরকারি সহায়তার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ইমরানের সহকর্মী আরমান শেখ জানায়, শুক্রবার ইমরান ও সে ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার জন্য মোটরসাইকেলে করে যাচ্ছিল। ইপো আয় টাওয়ার এলাকায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে দুজনেই ঘটনাস্থলেই মারা যান। ইমরানের পরিবার এবং গ্রামবাসী তার আকস্মিক মৃত্যুতে শোকাহত এবং দ্রুত তার মরদেহ দেশে ফেরানোর দাবি জানাচ্ছেন।



