ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক ন্যায্যতার নিয়ম ভাঙার ১১৪টি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে খবর এসেছে। লন্ডনের ইন্টারন্যাশনাল ডিসপিউট রেজোলিউশন সেন্টারে গঠিত স্বাধীন কমিশনের শুনানি গত বছরের ডিসেম্বরে শেষ হলেও বিলম্বিত সিদ্ধান্তের পর মামলাটি এখন আপিল পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। ক্লাবটি এখনো দাবি করছে, তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অসত্য।
অভিযোগগুলোর মূলে কী ছিল?
প্রিমিয়ার লিগের দাবি অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সিটি মৌসুভিত্তিক আর্থিক তথ্য সঠিকভাবে প্রকাশ করেনি। কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী ক্লাবগুলো নিজেদের প্রকাশিত আয়ের মধ্যেই খরচ করতে হবে। আয় বেশি দেখানো অথবা ব্যয়ের তথ্য লুকানোর মাধ্যমে এই বিধিনিষেধ এড়ানো সম্ভনা হলে খেলোয়াড় কেনা, বেতন প্রদান বা কোচ নিয়োগে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায়।
অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে সিটির এক কোচকে চার বছর ধরে দেওয়া অর্থের পূর্ণ হিসাব না জানানো। প্রিমিয়ার লিগের মতে, কোচটির সঙ্গে এমন একটি গোপন আর্থিক চুক্তি ছিল, যার অনুযায়ী তাকে সরকারি হিসাবে দেখানোর চেয়ে বেশি অর্থ দেওয়া হতো। এছাড়া পাঁচ বছর ধরে ইউয়েফারের আর্থিক ন্যায্যতার নিয়ম মানা হয়নি এবং তদন্তে সহযোগিতা না করার অভিযোগও উঠেছে।
তদন্তের ধাপ ও আগের রায়
২০১৮ সালে জার্মানির ডার স্পিগেল পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে ফুটবল লিকস ওয়েবসাইটেও প্রাপ্ত ইমেইলের তথ্য থেকে এই অভিযোগগুলো তুলে ধরা হয়। খবর প্রকাশের পর উয়েফার ২০১৯ সালে সিটির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। একই সঙ্গে প্রিমিয়ার লিগও আলাদা তদন্ত চালায়। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে লিগ সিটির বিরুদ্ধে ১১৫টি অভিযোগ উত্থাপন করে, যদিও প্রকৃত সংখ্যা ১৩০ হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল।
স্বাধীন কমিশনের শুনানি ২০২৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১২ সপ্তাহ ধরে চলে। ইউয়েফারের আগের তদন্তে কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্ট ২০২০ সালে সিটিকে দোষী সাব্যস্ত করে দুই বছরের ইউরোপীয় নিষেধাজ্ঞা ও ৩০ মিলিয়ন ইউরো জরিমানা দেয়। পাঁচ মাস পর কোর্ট নিষেধাজ্ঞা তুলে জরিমানা ১০ মিলিয়ন ইউরো করে। কোর্টের মতে, অভিযোগগুলোর বড় অংশ প্রমাণিত হয়নি অথবা পাঁচ বছরের সময়সীমা পেরিয়ে গেছে। প্রিমিয়ার লিগের এই তদন্তে তবে কোনো সময়সীমা না থাকায় কমিশন ২০০৯ সাল পর্যন্ত পুরোনো হিসাব যাচাই করতে পেরেছে।

-6ab75ccf53427.jpg)
-6ab76eae484f1.jpg)

