আর্জেন্টিনার জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সম্ভাব্য শেষ ম্যাচকে ঘিরে বিশাল আয়োজন শুরু হয়েছে। আগামী ৬ অক্টোবর বুয়েনস আইরেসের ঐতিহাসিক মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত হবে প্রীতি ম্যাচ। এই সাক্ষাতে মাঠে নামার মধ্য দিয়ে ২১ বছরের বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক যাত্রা সম্পূর্ণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দুই ঘণ্টায় শেষ হয়ে গেল টিকিট
মেসিকে জাতীয় দলের হয়ে শেষবার মাঠে দেখার সুযোগ পেতে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের আগ্রহ ব্যাপক। ফলে টিকিট বিক্রি শুরুর মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যেই প্রায় ৮৫ হাজার ধারণক্ষমতার মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামের সব টিকিট বিক্রি হয়ে যায়। বিশাল এই আগ্রহ বিদায়ী ম্যাচকে ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাঠ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
ক্যারিয়ারের সাফল্যে সাজানো বিশেষ জার্সি
মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সফল সময়গুলোকে স্মরণ করে বিশেষ একটি স্মারক জার্সি তৈরি করেছে ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারণ প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাস। ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে দুটি কোপা আমেরিকা ও একটি বিশ্বকাপ জেতার মতো ঐতিহাসিক অর্জনের স্মৃতি এতে প্রতিফলিত করা হয়েছে। জার্সিটির নকশা ও নানা খুঁটিনাটি আগে মেসি নিজেই ইনস্টাগ্রামে ছোট একটি ভিডিওর মাধ্যমে দেখিয়ে দিয়েছিলেন।
জার্সির মূল ভিত্তি আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যবাহী নীল-সাদা জাতীয় পতাকার রঙ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রাজকীয় সোনালী রং এবং বিভিন্ন প্রতীকী উপাদান। সামনে ও পেছনে আর্জেন্টিনার পতাকার ঐতিহাসিক ‘মে সূর্য’ অঙ্কিত করা হয়েছে। বুকের অংশে অ্যাডিডাসের প্রচলিত লোগোর বদলে রাখা হয়েছে মেসির নিজস্ব ‘এম’ প্রতীক। পেছনে সোনালী অক্ষরে তাঁর নাম এবং বিখ্যাত ১০ নম্বর স্থান পেয়েছে।
ঘাড়ের পেছনেও বিশেষ নকশা রয়েছে। সূর্য আকৃতির প্রতীকের ভেতরে জলপাই পাতার মালায় ঘেরা অবস্থানে রয়েছে ১০ নম্বর। জার্সির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সাদা ও সোনালী রঙের বুটও ম্যাচে মেসি পরতে পারেন। মেসি ভিডিটি প্রকাশের সময় লেখেন, ‘ওয়ান লাস্ট ম্যাচ। আ জার্সি ফর আ লাইফটাইম’—অর্থাৎ, ‘একটি শেষ ম্যাচ। সারা জীবনের জন্য একটি জার্সি।’
বেনিন ম্যাচে ২০৮তম আন্তর্জাতিক মাঠ
বেনিনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচটি আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির ২০৮তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ হবে। জাতীয় দলের হয়ে এখন পর্যন্ত তিনি ১২৫টি গোল করেছেন এবং ৬৮টি অ্যাসিস্ট দিয়েছেন। গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে ১৯৩টি গোলে অবদান রেখেছেন তিনি। ফুটবলের ইতিহাসে এই পরিসরে তাঁর চেয়ে বেশি গোল-অবদান রেখেছেন আর কোনো খেলোয়াড়।




