পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস রচনা করেছেন তরুণ ব্যাটার মোহাম্মদ শেহজাদ। ইসলামাবাদের ডায়মন্ড ক্রিকেট গ্রাউন্ডে প্রেসিডেন্টস ট্রফি গ্রেড-ওয়ানের তৃতীয় রাউন্ডের প্রথম দিনে পাকিস্তান টেলিভিশনের (পিটিভি) হয়ে কিংসম্যান একাডেমির বিপক্ষে মাত্র ৪৯ বলে সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। এই ইনিংসের মাধ্যমে পাকিস্তানি ব্যাটারদের মধ্যে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড নিজের করে নেওয়ার পাশাপাশি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে টিকে থাকা পাকিস্তানের স্বীকৃত রেকর্ডও ভাঙেন তরুণ ক্রিকেটার।
ম্যাচে পিটিভি মাত্র ৩৪ রানেই তিনটি উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ের মুখে পড়লে পঞ্চম নম্বরে ব্যাট করতে নামেন শেহজাদ। এরপর তিনি পালটা আক্রমণে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেন। আউট হওয়ার আগে মাত্র ৬২ বলে ১১৪ রান করেন তিনি। ইনিংসে তিনি ১২টি চার ও আটটি ছক্কা হাঁকান। চতুর্থ উইকেটে মোহাম্মদ তাহারের সঙ্গে ১৪৩ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ার মাধ্যমে পিটিভিকে চাপ থেকে ফিরে দাঁড়াতে সহায়তা করেন শেহজাদ।
রেকর্ড ভাঙার পেছনের গল্প
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজের ২১তম ম্যাচেই ষষ্ঠ সেঞ্চুরি সম্পূর্ণ করেন শেহজাদ। তবে শুধু সংখ্যার ভিত্তিতে ইনিংস নয়, ৪৯ বলে শতক হাটিয়ে তিনি পাকিস্তানের জন্য তৈরি করেছেন একটি নতুন মাইলফলক। এর আগে পাকিস্তানের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড ছিল সাবেক অধিনায়ক মিসবাহ-উল-হকের। ২০১৪ সালে আবুধাবিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে ৫৬ বলে শতক করেছিলেন তিনি।
মিসবাহ-উল-হকের ওই ইনিংসের কারণে টেস্ট ক্রিকেটের দ্রুততম সেঞ্চুরির তালিকায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ভিভিয়ান রিচার্ডসের পাশে তাঁর নামও যুক্ত হয়েছিল। পরে ২০১৬ সালে নিউজিল্যান্ডের ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ৫৪ বলে সেঞ্চুরি করে সেই রেকর্ড ছিনিয়ে নেন। এবার শেহজাদের স্বীকৃত প্রথম শ্রেণির ইনিংসটি পাকিস্তানের জন্য নতুন স্বীকৃত মাইলফলক হিসেবে স্থায়ী হয়ে গেছে।
অনূর্ধ্ব-বয়সী ক্রিকেট থেকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে
পিসিবির বয়সভিত্তিক ক্রিকেট কাঠামো পেরিয়ে আসা শেহজাদ পাকিস্তানের অনূর্ধ্ব-১৬ ও অনূর্ধ্ব-১৯ দলে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২০২০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপেও তিনি খেলেছেন। এখন পর্যন্ত ২২টি লিস্ট-এ এবং ২৬টি স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি ম্যাচে অংশ নিয়েছেন তরুণ ব্যাটারটি। পাকিস্তান সুপার লিগে তাঁর অভিষেক হয়েছিল ২০২৫ মৌসুমে; ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের হয়ে সেই আসরে ছয়টি ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি। ঘরোয়া প্রথম শ্রেণিতে এবারকার রেকর্ড সৃষ্টি তাঁর ভবিষ্যৎ সম্ভাবনায় আরও যোগ করেছে।


