ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সবশেষ টেস্ট শেষ হওয়ার পর পাকিস্তানের জাতীয় দলের অন্যতম তারকা মোহাম্মদ রিজওয়ানকে লন্ডনের একটি হোটেল থেকে নিচে ডেকে পাঠানো হয়েছে। পিসিবির অ্যান্টি করাপশন কর্মকর্তা কর্নেল আখতার তাকে ডাকেন এবং ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনটি নিয়ে আসতে বলেন। পরে ফোনটি তদন্ত কর্মকর্তার কাছে রাখা হয়, যা কয়েক সপ্তাহ পেরিয়েও রিজওয়ানের কাছে ফেরত দেওয়া হয়নি।
জিজ্ঞাসাবাদে বাজি ও অনলাইন জুয়ার প্রশ্ন
হোটেলের নিচে রিজওয়ানের সঙ্গে পাকিস্তানের ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির একজন কর্মকর্তার দেখা হয়। এরপর বাজি ও অনলাইন জুয়া সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্ন করা হয় তাকে। একপর্যায়ে তার মোবাইল ফোনটি নিয়ে নেওয়া হয়। বর্তমানে ফোনটি তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে রয়েছে এবং ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে।
আদালতে দাওয়া আবেদনে রিজওয়ান জানান, তাকে ফোনটি পরীক্ষা করে তিন ঘণ্টার মধ্যেই ফেরত দেওয়া হবে বলা হয়েছিল। তবে কয়েক সপ্তাহ পেরিয়েও ফোনটি তিনি পাননি। তার দাবি, ফোন নেওয়ার আগে কোনো লিখিত নোটিশ, অভিযোগ, অভিযোগের ভিত্তি বা জব্দের অনুমতিপত্র দেখানো হয়নি।
কী অপরাধের তদন্ত চলছে তা জানানো হয়নি
রিজওয়ান আদালতে আরও জানান, তাকে কী অপরাধে সন্দেহ করা হচ্ছে, কোন ঘটনার তদন্ত চলছে এবং কোন আইনি ক্ষমতাবলে তার ফোন নেওয়া হয়েছে—এসব বিষয়ে তাকে অবহিত করা হয়নি। পাকিস্তানের ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইমস ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি তার জিজ্ঞাসাবাদ করলেও এ বিষয়ে বিস্তারিত বলেনি। তদন্তে তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও অন্যান্য আর্থিক বিষয়েও তথ্য চাওয়া হয়েছে।
অপরাধ প্রমাণিত হয়নি: পিসিবি
আদালত স্পষ্ট করেছে, কোনো ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের নোটিশ দেওয়া মানেই তার বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে বা তিনি দোষী—এমন নয়। পিসিবির সাবেক আইনপ্রধান তাফাজ্জুল রিজভিও বলেছেন, বর্তমানে রিজওয়ানের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের প্রমাণ বা স্বীকারোক্তি পাওয়া যায়নি এবং নোটিশের উদ্দেশ্য তথ্য সংগ্রহ করা। তবে পিসিবি অভ্যন্তরীণ তদন্তের বিষয়ে নীরবতা বজায় রেখেছে।



