দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়ে বিরোধী দলগুলোকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান। শনিবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মহিলা দল আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি বলেন, সবাইকে দেশের কল্যাণের কথা ভেবে একত্রে কাজ করতে হবে।
ঐক্যের ওপর জোর
সমাবেশে নজরুল ইসলাম খান বলেন, যাঁরা ধারণা করেন তাঁরা দেশের কমন শত্রু, তাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ঐক্য বহাল রাখা উচিত। তিনি প্রশ্ন করেন, বিরোধী শক্তির পক্ষে নিজেদের সম্পৃক্ত করে কী লাভ হবে। ‘কমন শত্রুর’ বিরুদ্ধে প্রতিরোধে একসঙ্গে কাজ না করলে বিরোধী পক্ষের ষড়যন্ত্রকে আরও সুবিধা হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
একই সমাবেশে তিনি দাবি করেন, পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টার বিরুদ্ধে সমাবেশ ও মিছিলের কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, দেশের জনগণ সংকট ও দুঃসময় পেরিয়ে যাওয়ায় বিএনপি সবসময় জনগণের পাশে থেকেছে এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখিয়েছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রকে ‘জবাই’ করেছে বলে তাঁর দাবি, যা প্রতিপক্ষের রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।
অতীতের সংকট ও বর্তমান দায়িত্ব
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের দিকে মনোযোগ দিয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ১৯৭৫ সালের জানুয়ারিতে সব রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করে একদলীয় শাসন কায়েম করা হয়েছিল। একপরে ১৯৮২ সালে নির্বাচিত সরকার উৎখাত করে সামরিক স্বৈরশাসন চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তিনি জানিয়েছেন, সেই স্বৈরশাসন স্থায়ী করতে কয়েকটি রাজনৈতিক দল সহযোগিতা করেছিল।
বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে বিএনপি জনগণের পাশে থেকে বিশ্বাসভাজনীয় ভূমিকা রেখেছিল। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রাম এগিয়ে নিয়ে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জনগণ বিএনপিকে ক্ষমতায় নির্বাচিত করেছিল। তিনি এক-এগারোর শাসনকে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বিকৃত ও ধ্বংসের প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত করে সমালোচনা করেন। একই অভিযোগে বিএনপি নেতা বলেন, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনা হয়েছে এবং দেশে ফ্যাসিবাদি শাসন চলছে।
সদ্য অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় নির্বাচিত হওয়ার দাবি করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, দলটি এখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে এবং এটি ক্ষমতা নয়, বরং দায়িত্ব। উন্নয়নকাজ ব্যাহত হলে সাধারণ মানুষ, শ্রমজীবী ও কর্মজীবী শ্রেণির মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই তিনি বিরোধী দলগুলোকে দেশ ও জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে একত্রে কাজ করতে এবং পতিত স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদের সুবিধা না নিতে আহ্বান জানান।






-6ab8bdd74dab2.jpg)