শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬
২ঠা কার্তিক, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

রাজনীতি

‘পিপীলিকার পাখা গজায় মরিবার তরে’ — বিএনপিকে বললেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

‘পিপীলিকার পাখা গজায় মরিবার তরে’ — বিএনপিকে বললেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী...

ন
নাজমুল ইসলাম· বিশ্লেষক
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৫ এএমসর্বশেষ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৫ এএম
‘পিপীলিকার পাখা গজায় মরিবার তরে’ — বিএনপিকে বললেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

‘২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান কোনো দলের ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি ছিল না’ — ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারকে ইঙ্গিত করে বলেছেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তার ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে এ বিষয়টি লিখেছেন তিনি।

তার আশঙ্কা, গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে পুরোনো কাঠামোর রাজনীতিই আবার প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। তিনি লিখেছেন, ‘হাসিনার মতো কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে লড়তে গিয়ে বিএনপির অনেক পাপের হিসাব আমরা তুলিনি। ভেবেছিলাম, আগে স্বৈরাচারের পতন হোক, তারপর রাষ্ট্র ও রাজনীতির সব অন্যায়ের হিসাব হবে। কিন্তু ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পরও যদি পুরোনো ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতিই ফিরে আসে, তাহলে এত রক্ত, এত আত্মত্যাগ, এত মানুষের স্বপ্নের মূল্য কোথায়?

তিনি আরও লিখেছেন, ‘কর্নেল তাহেরের রক্তের প্রশ্ন আমরা তুলিনি, ১/১১-এর পেছনে রাজনৈতিক ব্যর্থতার হিসাব চাইনি, ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা কেন পূরণ হলো না, সেই প্রশ্নও সামনে আনিনি। কারণ আমরা চেয়েছিলাম, বাংলাদেশ শুধু একজন শাসককে বিদায় করবে না, বাংলাদেশ তার স্বৈরতান্ত্রিক রাষ্ট্রকাঠামোকেও বিদায় করবে।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে ক্ষমতাসীনদের ভূমিকা কী, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন নাসীর। তার ভাষ্য, ‘২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান কোনো দলের ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি ছিল না। এটি ছিল রাষ্ট্রের মালিকানা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার ঐতিহাসিক দাবি। সংবিধানে ক্ষমতার ভারসাম্য, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা, নিরপেক্ষ নির্বাচনব্যবস্থা, জবাবদিহিমূলক প্রশাসন, পুলিশি ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিষ্ঠান, এসবই ছিল সংস্কারের মূল প্রশ্ন। কিন্তু এখন প্রশ্ন হলো, যে রাষ্ট্র সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে মানুষ রাস্তায় নেমেছিল, সেই সংস্কার বাস্তবায়নে ক্ষমতাসীনদের ভূমিকা কী?

এরপর তিনি বলেছেন, ‘২০২৫ সালের জুলাই জাতীয় সনদে রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচিত বিএনপি সরকার সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ নিতে অস্বীকৃতি জানায়, যা সংস্কার বাস্তবায়নের পদ্ধতি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। একই বছরের এপ্রিলে বিভিন্ন অধ্যাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়েও জবাবদিহি ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশিত হয়। বিএনপির বক্তব্য ও যুক্তি থাকতে পারে, কিন্তু জনগণের প্রশ্নও স্পষ্ট: সংস্কারের প্রতিশ্রুতি কি বাস্তবে রূপ নেবে, নাকি ক্ষমতার হিসাবের কাছে আবারও পরাজিত হবে?

বিএনপি সরকারের গৃহীত জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির বিরোধী এনসিপি নয়, জানিয়ে তিনি দাবি করেন, গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা এসব দিয়ে পূরণ করা যাবে না। তার কথা, ‘আমরা খালকাটা, ফ্যামিলি কার্ড কিংবা অন্য কোনো জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির বিরোধী নই। কিন্তু রাষ্ট্রের কাঠামো যদি জবাবদিহিমূলক না হয়, বিচারব্যবস্থা যদি স্বাধীন না হয়, নির্বাচনব্যবস্থা যদি আস্থার জায়গায় না পৌঁছায়, আর প্রশাসন যদি দলীয় প্রভাবমুক্ত না হয়, তাহলে সাময়িক জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ দিয়ে গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা যাবে না।

তিনি আরও জানান, ‘আর যখন সাধারণ মানুষের রুটিরুজির ওপর আঘাত আসে, যখন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর পেটেও লাথি পড়ে, তখন নীরব থাকার আর কোনো নৈতিক ভিত্তি থাকে না। যে পরিবর্তনের জন্য মানুষ জীবন দিয়েছে, সেই পরিবর্তনকে দলীয় স্বার্থের কাছে বিসর্জন দেওয়া যায় না।

তিনি আরও লিখেছেন, ‘২০২৪ ছিল পুরোনো রাজনৈতিক বন্দোবস্ত ভাঙার সুযোগ। সেই সুযোগ হাতছাড়া হলে দায় শুধু অতীতের স্বৈরাচারের থাকবে না; দায় বর্তাবে বর্তমানের ক্ষমতাবানদের ওপরও। বিএনপি অতীতে কী করেছে, তার জবাবদিহি যেমন প্রয়োজন, তেমনি আজ ক্ষমতায় থেকে কী করছে, তারও হিসাব দিতে হবে। কোনো দলই জনগণের আত্মত্যাগের মালিক নয়। কোনো দলই রাষ্ট্রের মালিক নয়। জনগণই রাষ্ট্রের মালিক।

জনআকাঙ্ক্ষা উপেক্ষা করলে ক্ষমতা স্থায়ী হবে না, এমন সতর্কবার্তাও দিয়েছেন তিনি। তার কথা, ‘পিপীলিকার পাখা গজায় মরিবার তরে, ক্ষমতার দম্ভ মানুষকে এই সত্য ভুলিয়ে দেয়। কিন্তু ইতিহাস বারবার মনে করিয়ে দেয়, জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে কোনো ক্ষমতাই চিরস্থায়ী হয় না। ২০২৪-এর সংস্কার ছিল জনগণের প্রত্যাশার সীমারেখা। সেই সীমারেখা অতিক্রম করে পুরোনো রাজনীতিতে ফিরে গেলে জনগণ আবারও প্রশ্ন তুলবে। কারণ পাপের দায় ক্ষমতার আড়ালে ঢাকা যায়, কিন্তু চিরদিনের জন্য মুছে ফেলা যায় না।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
ন

নাজমুল ইসলাম

বিশ্লেষক

রাজনৈতিক রিপোর্টার, বিশ্লেষক ও কলামিস্ট।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ