সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬
৪ঠা কার্তিক, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

ছয় লাখ পর্যটকের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে কুয়াকাটা

ছয় লাখ পর্যটকের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে কুয়াকাটা...

স
সুমিত রয়· প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৭ এএমসর্বশেষ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৭ এএম
ছয় লাখ পর্যটকের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে কুয়াকাটা

দীর্ঘ ৯ বছর পর ২৩ ও ২৪ অক্টোবর কুয়াকাটায় অনুষ্ঠিত হবে পর্যটন কার্নিভ্যাল। যার উদ্যোক্তা বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন। কার্নিভ্যালকে কেন্দ্র করে সেখানে চলছে সাজসাজ রব। ইতোমধ্যে ৩ লাখের বেশি মানুষ নিবন্ধন করেছে। কম করে হলেও ৬ লাখ পর্যটক আসবে-এমনটাই আশা আয়োজকদের। আর তাদের বরণ করতে প্রস্তুত হচ্ছে কুয়াকাটা। তৈরি হচ্ছে সাগরকন্যার হোটেল, মোটেল আর রিসোর্ট। পর্যটন ব্যবসায়ীরাও বুনছেন আশার জাল। এই আয়োজনে কুয়াকাটাকে নতুন করে চিনবে মানুষ-এমনটাই আশা তাদের।

একই সৈকতে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত দেখার দুর্লভ সুযোগের কারণে খুব কম সময়ের মধ্যে দেশ-বিদেশে খ্যাতি পেয়েছে কুয়াকাটা। শুরুতে সৈকতের পাশাপাশি এখানে দর্শনীয় স্থান বলতে ছিল কুয়াকাটার কুয়া, রাখাইন বসতি, বৌদ্ধমন্দির, ফাতড়ার জঙ্গল আর মিশ্রিপাড়ায় থাকা বুদ্ধ দেবের বিশাল শ্বেতপাথরের মূর্তি। তখনকার সময়ে এসব দেখেই তৃপ্ত থাকতে হতো পর্যটকদের। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এই পর্যটনকেন্দ্রে নতুন মাত্রা যোগ করেছে লেম্বুর বন, তিন নদীর মোহনা, দোলনা পয়েন্ট, চর গঙ্গামতী, মিনি সুইজারল্যান্ড, চর বিজয়, কয়েকশ বছরের পুরোনো নৌকা ও ঝিনুক রাজ্য। এর মধ্যে চর গঙ্গামতী আর লেম্বুর বন বিখ্যাত সমুদ্রসৈকতে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার জন্য।

এসব ভিউ পয়েন্টের আবিষ্কারসহ পর্যটকদের ঘুরে বেড়ানোর জন্য নতুন অনেক দর্শনীয় স্থান সামনে এলেও প্রচারের অভাবে পিছিয়ে থাকে কুয়াকাটা। ভাঙনের হাত থেকে সৈকত রক্ষা আর পর্যটনকেন্দ্রের উন্নয়ন প্রশ্নে সরকাগুলোর ধারাবাহিক অবহেলার শিকারও হতে থাকে এই সমুদ্রসৈকত। তবে এবার সেই হতাশার মধ্যে কিছুটা হলেও আশার আলো দেখাচ্ছে পর্যটন কার্নিভ্যাল। এবারের কার্নিভ্যালে ৬ লাখের বেশি পর্যটক কুয়াকাটায় আসবেন বলে আশা করছেন পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মো. শামিমুজ্জামান। কার্নিভ্যালকে ঘিরে নানা উৎসবের আয়োজনও চলছে কুয়াকাটায়।

পর্যটন করপোরেশন সূত্রে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, দুদিনব্যাপী কার্নিভ্যালে থাকছে বিচ ফুটবল, ঘুড়ি ওড়ানো উৎসব, সূর্যাস্ত উপভোগ, লেম্বুর বন-দোলনা পয়েন্ট-তিন নদীর মোহনা ভ্রমণ, পুথিপাঠ, দেশীয় ফ্যাশন শো, মিউজিক কনসার্ট, বিচ ম্যারাথন, গঙ্গামতীর চরে সূর্যোদয় দর্শন, পিঠা উৎসব, চর বিজয়ে আনন্দভ্রমণ, বাউলগানের আসর, শিশুদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, কমেডি শো, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কিডস্ বিচ ফুটবল, বিচ ক্রিকেট, বিচ ভলিবল, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, কুইজ প্রতিযোগিতাসহ আরও নানা আয়োজন। এসব আয়োজনে উপস্থিত থাকবেন দেশের সিনেমা ও টেলিভিশনের চেনা মুখ প্রখ্যাত নায়ক-নায়িকাসহ বিশ্বখ্যাত ক্রিকেটার, খেলোয়াড়, নামকরা সংগীতশিল্পী, ব্যান্ডের গায়কসহ আরও অনেক অতিথি।

ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ও টেলিভিশনে শুরু হয়েছে এই পর্যটন কার্নিভ্যালের প্রচার। দেশ-বিদেশের পর্যটকরাও দারুণ আগ্রহ দেখাচ্ছেন এই কার্নিভ্যালকে ঘিরে। যেহেতু পূজার ছুটির মধ্যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে কার্নিভ্যাল; তাই আয়োজকদের আশা ছাড়িয়ে আরও বেশি পর্যটক এই উৎসবে অংশ নেবে বলে ধারণা করছেন সবাই। বিপুলসংখ্যক পর্যটককে বরণ করতে কুয়াকাটার হোটেল, মোটেল আর রিসোর্ট মালিকরাও নিচ্ছেন প্রস্তুতি। তবে এই বিপুলসংখ্যক মানুষকে কী করে জায়গা দেবে কুয়াকাটা, সেটাই বড় প্রশ্ন।

কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মোতালেব শরীফ বলেন, ‘আমাদের এখানে ৩শর মতো হোটেল-মোটেল রয়েছে। এসব স্থাপনায় সর্বোচ্চ ৫০ হাজার মানুষকে আবাসন দেওয়া যাবে। আলোচনা চলছে, বাকিদের ব্যাপারে কী করা যায়। আমরা চেষ্টা করব, যাতে সব পর্যটককে সেবা দিতে পারি।

কুয়াকাটা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম মিরন বলেন, ‘৬ লাখ পর্যটক এলেও তাদের দুই-তৃতীয়াংশের রাতে না থাকার সম্ভাবনাই বেশি। দেখা যাবে যে, আশপাশের জেলা-উপজেলাগুলো থেকেই এসেছে বেশির ভাগ। প্রতিদিনের অনুষ্ঠান শেষে তারা ফিরে যাবেন যার যার এলাকায়। তারপরও থাকার ব্যবস্থা করতে হবে দুই লাখ পর্যটকের। হোটেল-মোটেলে ৫০ হাজারের জায়গা হওয়ার পর বাকি দেড় লাখের জন্য হোম স্টেসহ অন্যান্য আবাসনের ব্যবস্থা করার প্রস্তুতি চলছে। আশা করি, কারোরই কোনো কষ্ট হবে না।

কার্নিভ্যাল সামনে রেখে এরই মধ্যে কুয়াকাটার অগ্রিম রুম বুকিংয়ের খবরও দিয়েছেন সেখানকার হোটেল-মোটেল মালিকরা। সাগরপারের প্রেসিডেন্ট পার্ক হোটেলের মালিক ফারুক মীর বলেন, ‘আমার এখানকার প্রায় সব রুম ১৯ অক্টোবর রাত থেকেই বুকিং হয়ে গেছে।’ আরেক হোটেল ‘গ্র্যান্ড পার্ল’-এর মালিক একেএম আজাদ বলেন, ‘২০ অক্টোবর থেকে মাসের বাকিটা সময় আমার হোটেলে কোনো রুম খালি নেই।

আরও কয়েকটি হোটেলের মালিকরাও জানান একই তথ্য। ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টোয়াক)-এর প্রেসিডেন্ট রুম্মন ইমতিয়াজ তুষার বলেন, ‘এই কার্নিভ্যাল আমাদের জন্য একটি বিশাল সুযোগ। দেশ-বিদেশের পর্যটকরা আসবেন এখানে। নতুন করে ব্র্যান্ডিং হবে পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটার। কার্নিভ্যালে আসা পর্যটকদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে তাই আমরাও প্রস্তুতি নিচ্ছি; যাতে এ অঞ্চলের মানুষের আতিথেয়তায় মুগ্ধ হয়ে পর্যটকরা বারবার এখানে ছুটে আসেন।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
স

সুমিত রয়

প্রতিবেদক

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, ডেইলি বরিশাল। সাংবাদিকতায় ৫ বছরের অভিজ্ঞতা।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ