সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬
৪ঠা কার্তিক, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

জাতীয়

আগারগাঁওয়ে নতুন সচিবালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ১৬ ডিসেম্বর

আগারগাঁওয়ে নতুন সচিবালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ১৬ ডিসেম্বর...

ম
মুনতাসির মাহমুদ· বার্তা সম্পাদক
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২১ এএমসর্বশেষ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২১ এএম
আগারগাঁওয়ে নতুন সচিবালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ১৬ ডিসেম্বর

চলতি বছরের বিজয় দিবস অর্থাৎ ১৬ ডিসেম্বর রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের আগারগাঁওয়ে নতুন সচিবালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আবদুল গনি রোড থেকে সচিবালয় সরানোর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করলো সরকার।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী সংসদ নির্বাচনের আগে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগককে এক ক্যাম্পাসের মধ্যে নিয়ে নতুন সচিবালয়ে অফিস করতে চান, মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থিত সূত্রসংবাদমাধ্যমকে এমনটাই জানিয়েছেন।

গতকাল রোববার বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে সচিবালয় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত হয়। সরকার এ প্রকল্পের অর্থায়ন করলেও কত টাকা ব্যয় হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ সংক্রান্ত প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।

সচিবালয় স্থানান্তর হলে পুরান ঢাকাকেন্দ্রিক কিছু অফিস বা ঢাকায় যেসব সরকারি অফিস ভাড়া করা ভবনে পরিচালিত হচ্ছে সেগুলোকে বর্তমান সচিবালয়ের ভবনগুলোতে স্থান দেওয়া হতে পারে বলে গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে।

মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে গতকাল সন্ধ্যায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে মন্ত্রিসভা বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলো সাংবাদিকদের অবহিত করেন। তিনি জানান, রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পুরনো বাণিজ্যমেলার মাঠে ৩১ একর জায়গাজুড়ে নতুন সচিবালয় নির্মাণ করা হবে। এটি নান্দনিক স্থাপনা হবে, স্থপতি লুই আই কানের একই নকশায় না হলেও তার মূল ভাবনার সঙ্গে যোগসূত্র থাকবে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন সচিবালয়ে ৩৩ লাখ ১৬ হাজার বর্গফুট আয়তনের ভবন ও অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণ করা হবে। এতে তিনটি বেজমেন্ট, ৩ হাজার ৮০০ গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা এবং ১২ তলাবিশিষ্ট ১৪টি ভবন থাকবে। এ ছাড়া মসজিদ, দুটি মাল্টিপারপাস হল, ক্যাফেটেরিয়া, ব্যায়ামাগার, পাসপোর্ট অফিস ও ডাকঘর থাকবে। প্রস্তাবিত সচিবালয়ে ২০০টি ভূ-উপরিস্থ পার্কিং ব্যবস্থার পাশাপাশি ৩০ শতাংশ জায়গায় সবুজায়ন ও জলাধার থাকবে।

নতুন সচিবালয়ের আশপাশে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বেশ কিছু ভূগর্ভস্থ সড়ক ও আন্ডারপাস নির্মাণের পাশাপাশি যানবাহন চলাচলের প্রবাহ ঠিক রাখতে বিদ্যমান রাস্তার প্রশস্ততা আরও বাড়ানো হবে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

সচিবালয় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষের প্রত্যাশার সঙ্গে কতটা সংগতিপূর্ণ-এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘বর্তমান সচিবালয়ে ১৮ লাখ ৭৬ হাজার বর্গফুট জায়গা থাকলেও ১৬টি মন্ত্রণালয়ের জায়গা হয়নি, প্রধানমন্ত্রী চান সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ একই জায়গায় থাকবে, যাতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ দ্রুততর হয়।

এদিকে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বর্তমান সচিবালয়ে ১৭ দশমিক ৫৭ একর জায়গায় ১৩টি ভবন আছে, যার মধ্যে আটটিই স্বাধীনতার আগের নির্মাণ। সচিবালয়ের ১, ২, ৩ ও ৮ নম্বর ভবন ১৯৩৭ থেকে ১৯৩৯ সালের মধ্যে এবং ৫ নম্বর ভবন ১৯৪৭ সালে নির্মাণ হয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া, ভবনগুলোতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবহারযোগ্য জায়গা নেই উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘পর্যাপ্ত সংখ্যক শৌচাগার ব্লক না থাকায় এবং ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি কর্মচারী থাকায় স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

গতকালের মন্ত্রিসভা বৈঠকে ‘মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ করার প্রস্তাবও অনুমোদন পেয়েছে।

এ ছাড়াও, বৈঠকে বিপজ্জনক রাসায়নিক ও কীটনাশকের আমদানি, রপ্তানি এবং ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াতে ‘রটারডাম কনভেনশন’-এ বাংলাদেশকে যুক্ত করার প্রস্তাবে সায় দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, অনেক ধরনের বিষাক্ত রাসায়নিক ও কীটনাশক রয়েছে, যেগুলোর ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে আগে জেনে নেওয়া প্রয়োজন। এ কনভেনশনে যুক্ত হলে বিভিন্ন রাসায়নিকের ক্ষতিকর দিকগুলো সম্পর্কে জেনে-বুঝে সেগুলো আমদানি করা হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। বর্তমানে ১৬৭টি দেশ এই সংগঠনের সদস্য।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
ম

মুনতাসির মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক

নিউজরুম এডিটর, ডেইলি বরিশাল ডটকম। বার্তা বিভাগে অভিজ্ঞতা ৭ বছর।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ