সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬
৪ঠা কার্তিক, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

জাতীয়

সৌদিতে ছেলের মৃত্যুদণ্ড, মরদেহের অপেক্ষায় পরিবার

সৌদিতে ছেলের মৃত্যুদণ্ড, মরদেহের অপেক্ষায় পরিবার...

ম
মুনতাসির মাহমুদ· বার্তা সম্পাদক
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৫:১৩ পিএমসর্বশেষ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৫:১৩ পিএম
সৌদিতে ছেলের মৃত্যুদণ্ড, মরদেহের অপেক্ষায় পরিবার

ছেলেকে সৌদি আরবে পাঠাতে সাত লাখ টাকা ঋণ করেছিলেন আব্দুল বাছির। আশা ছিল, পরিবারের অভাব দূর করবেন ছেলে নজরুল ইসলাম। কিন্তু বিদেশে যাওয়ার ছয় মাসের মাথায় কারাগারে যেতে হয় তাকে। এরপর কেটে গেছে তিন বছরেরও বেশি সময়।

গত ১৪ অক্টোবর মক্কায় নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। গণমাধ্যমের খবর থেকে ছেলের মৃত্যুর কথা জানতে পারেন বাছির। এখন লাশের অপেক্ষায় আছেন তিনি।

অন্যদিকে, ঋণ পরিশোধের চাপও সামলাতে হচ্ছে বাবা আব্দুল বাছিরকে। তিনি বলেন, ‘ছেলেকে সাত লাখ টাকা ঋণ করে পরিবারের হাল ধরতে প্রবাসে পাঠিয়েছিলাম। পাঠানোর ছয় মাস পর থেকেই সে জেলে ছিল। এর মধ্যে দেড় লাখ টাকা পাঠিয়েছিল।

আব্দুল বাছির আরও বলেন, ‘যাদের কাছে ঋণ করেছি, তারাও চাপ দিচ্ছে। আমি আমার ছেলের মরদেহ দেশের মাটিতে ফিরে পেতে চাই। তাকে যদি বিনা কারণে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে থাকে, তার বিচার আমি চাই।

স্বজনদের অভিযোগ, নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে তাদের কেউ কিছু জানায়নি। আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও পাননি নজরুল।

পরিবারের সদস্যরা জানান, গণমাধ্যমের খবর থেকেই তারা নজরুলের মৃত্যুদণ্ডের বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর থেকে মা রহিমা বেগমের চোখের পানি শুকায়নি।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, মৃত্যুদণ্ডের খবর পাওয়ার পর বুধবার রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান নজরুলের ফুফু আবেদা বেগম।

চার ভাইবোনের মধ্যে সবার বড় নজরুলের বয়স ছিল ২২ বছর। পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির আশায় ২০২২ সালের ১০ নভেম্বর সৌদি আরবে যান তিনি। সেখানে একটি প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন।

স্বজনদের ভাষ্য, সৌদি আরবে যাওয়ার প্রায় ছয় মাস পর মক্কার একটি মসজিদে সুইটি আক্তার নামের এক তরুণীর সঙ্গে ‘অনৈতিক কাজে’ জড়ানোর অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করে দেশটির পুলিশ। এরপর প্রায় তিন বছর তিন মাস কারাগারে ছিলেন নজরুল।

নজরুলের মা রহিমা বেগম বলেন, কারাগারে থাকা অবস্থায়ও ছেলে প্রতি রোববার পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলতেন। কিন্তু মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে তারা কেউ কোনো খবর পাননি। গণমাধ্যমে ছেলের মৃত্যুর খবর জানার পর থেকে তারা ভেঙে পড়েছেন।

নজরুলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে তার বাড়িতে ভিড় করছেন স্বজন ও প্রতিবেশীরা। এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গ্রামের অনেকেই। তাদের দাবি, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে নজরুল আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পেয়েছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

তারা বলেন, সৌদি আরব বিভিন্ন ক্ষেত্রে উদার নীতি গ্রহণ করছে। সে ক্ষেত্রে আইন ও বিচারপ্রক্রিয়াতেও সংশোধনের সুযোগ থাকা উচিত ছিল। নজরুলের অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়াতে বাংলাদেশ ও সৌদি আরব সরকারের প্রতিও আহ্বান জানান তারা।

নজরুলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তার পরিবার।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ বলেন, ‘প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকেও কোনো আবেদন করা হয়নি। মরদেহ দেশে এলে, জেলার বাসিন্দা হিসেবে নিয়ম অনুযায়ী সহায়তা করা হবে।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
ম

মুনতাসির মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক

নিউজরুম এডিটর, ডেইলি বরিশাল ডটকম। বার্তা বিভাগে অভিজ্ঞতা ৭ বছর।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ