সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬
৪ঠা কার্তিক, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

চাঁদা দাবির প্রতিবাদ করায় জেলেদের ওপর হাতবোমা হামলার অভিযোগ, আহত ৫

চাঁদা দাবির প্রতিবাদ করায় জেলেদের ওপর হাতবোমা হামলার অভিযোগ, আহত ৫...

স
সুমিত রয়· প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৭:৫৪ পিএমসর্বশেষ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৭:৫৪ পিএম
চাঁদা দাবির প্রতিবাদ করায় জেলেদের ওপর হাতবোমা হামলার অভিযোগ, আহত ৫

চাঁদা আদায়, মাছ ও জাল ছিনিয়ে নেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে বরিশালের মুলাদীতে জেলেদের ওপর হাতবোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ট্রলারচালক ও জেলেসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।

রোববার (১৮ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার সফিপুর নোমরহাট খেয়াঘাটের উত্তর পাড়ে জয়ন্তী নদীতে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় জেলেদের সূত্রে জানা গেছে, সফিপুর ইউনিয়নের বড় লক্ষ্মীপুর গ্রামের কাসেম পালোয়ানের ছেলে জামাল পালোয়ান (৪২), ওরফে ‘বোমারু জামাল’, ও তার সহযোগী স্বপন পালোয়ানসহ ৮-১০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল এ হামলা চালায়।

হামলায় আহত ব্যক্তিরা হলেন মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার ষোলঘর গ্রামের আব্দুল জলিল ব্যাপারী (৪২), মুলাদীর সফিপুর গ্রামের ট্রলারচালক আজিজুল খান (২৪) ও স্থানীয় জেলে জহিরুল ইসলাম (২৫)। এ ছাড়া জাকির হোসেন (৩০) ও মোসলেম উদ্দীন ঘরামী (২৮) আহত হয়েছেন।

স্থানীয় জেলে সরোয়ার সরদার জানান, জামাল পালোয়ান সফিপুর ইউনিয়নের নোমরহাটের পশ্চিম পাশে একটি আড়তঘর নির্মাণ করে মাছ ব্যবসার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে জেলেদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি, জোরপূর্বক মাছ ও জাল ছিনিয়ে নেওয়ার একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

এ নিয়ে গত শনিবার অতিষ্ঠ জেলেরা জামাল পালোয়ানকে আটক করে জয়ন্তী নদীর নোমরহাট খেয়াঘাটের দক্ষিণ পাড়ে নিয়ে যান। সেখানে তাকে মারধর করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। তবে পরে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার সুপারিশে জেলেরা তাঁকে ছেড়ে দেন।

ওই ঘটনার প্রতিশোধ নিতে রোববার রাত ৮টার দিকে জামাল পালোয়ান ও তার সহযোগীরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জয়ন্তী নদীতে থাকা জেলেদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় তারা একের পর এক অন্তত ৩২ থেকে ৩৫টি হাতবোমা নিক্ষেপ করে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। বিকট শব্দে চারপাশ কেঁপে ওঠে। এতে ঘটনাস্থলেই পাঁচজন রক্তাক্ত ও দগ্ধ হন।

পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় ট্রলারচালক আজিজুল খানকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে এবং জেলে জহিরুল ইসলামকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক শফিকুল ইসলাম শোভন জানান, আহতদের শরীরের বেশ কয়েকটি স্থান আশঙ্কাজনকভাবে পুড়ে গেছে। দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। একজনকে মুলাদী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য দুজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

এ বিষয়ে মুলাদী থানার ওসি খন্দকার মো. সোহেল রানা বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে জেনেছি। জেলেদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়াসহ মামলা করা হবে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযুক্তদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান শুরু হয়েছে।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
স

সুমিত রয়

প্রতিবেদক

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, ডেইলি বরিশাল। সাংবাদিকতায় ৫ বছরের অভিজ্ঞতা।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ