সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬
৪ঠা কার্তিক, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

শিক্ষক সংকটে ভুগছে ভাণ্ডারিয়ার একমাত্র সরকারি বালিকা বিদ্যালয়

শিক্ষক সংকটে ভুগছে ভাণ্ডারিয়ার একমাত্র সরকারি বালিকা বিদ্যালয়...

স
সুমিত রয়· প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৬:১৭ পিএমসর্বশেষ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৬:১৭ পিএম
শিক্ষক সংকটে ভুগছে ভাণ্ডারিয়ার একমাত্র সরকারি বালিকা বিদ্যালয়

পিরোজপুর জেলার ভাণ্ডারিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ভাণ্ডারিয়া বন্দর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষক সংকটে ভুগছে। বিদ্যালয়টিতে পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় স্বাভাবিক পাঠদান ও প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, ফলে ৫ শতাধিক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

উপজেলার একমাত্র সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এটি। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিদ্যালয়টিতে পড়াশোনা করছে ৫৫০ জন শিক্ষার্থী। তাদের পাঠদানের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষক না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম। সংকট সামাল দিতে খণ্ডকালীন আরও পাঁচজন শিক্ষক দিয়ে কোনোরকম পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছে। নেই তাদের প্রশিক্ষণ ও প্রতিষ্ঠানিক কোনো অভিজ্ঞতা।

বিদ্যালয়টিতে প্রধান শিক্ষকসহ মঞ্জুরিকৃত পদের অর্ধেকেরও বেশি পদ শূন্য রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী কোনো পদায়ন বা নতুন নিয়োগ না হওয়ায় এ সংকট ঘনীভূত হয়েছে। বিদ্যালয়ে ১৪ জন শিক্ষকের স্থলে রয়েছেন মাত্র ৫ জন। ৯ জন শিক্ষকের পদই শূন্য।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের কোনো শিক্ষক নেই। বাংলা, বিজ্ঞান, ইংরেজি, সামাজিক বিজ্ঞান, ধর্ম, আইসিটি, শারীরিক শিক্ষাসহ আবশ্যকীয় বিষয়গুলোতে অভিজ্ঞ শিক্ষক না থাকায় বিকল্প উপায়ে অস্থায়ী পাঁচজন শিক্ষকের বেতন-ভাতার অর্থ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে। এতে সরকারি বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেও বাড়তি আর্থিক চাপের মুখে পড়ছেন শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অভিভাবকদের জন্য এই অতিরিক্ত ব্যয় বহন করা কষ্টকর হয়ে উঠতে পারে।

পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় প্রতিদিনের রুটিন অনুযায়ী নিয়মিত ক্লাশ নেওয়া সম্ভব হয় না। এর ফলে শিক্ষার্থীদের সিলেবাস সময়মতো শেষ করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রধান শিক্ষকের অভাবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বা জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের বাড়তি প্রশাসনিক চাপ সামলাতে হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে পাঠদানের ওপর। মানসম্মত শিক্ষার অভাবে অভিভাবকরা বাধ্য হয়ে সন্তানদের প্রাইভেট কোচিং বা গৃহশিক্ষকের ওপর নির্ভর করাচ্ছেন।

গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগুলোর (বার্ষিক পরীক্ষা) পূর্বে প্রস্তুতিমূলক ক্লাশ বা অতিরিক্ত নির্দেশনা না পাওয়ায় ফল বিপর্যয়ের ঝুঁকি থাকছে। সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ ও বদলির মাধ্যমে দ্রুত শূন্য পদগুলোতে শিক্ষক পদায়ন করা জরুরি। অবিলম্বে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা অত্যাবশ্যক।

শিক্ষক সংকট নিরসনে শিক্ষা অধিদপ্তর ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা পিরোজপুর জেলা শিক্ষা অফিসের আশু হস্তক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবু নাসের জানান, বিদ্যালয়টিতে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট রয়েছে। এ সংকট নিরসনে তিনি একাধিকবার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা দপ্তরসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিতভাবে চিঠি দিয়েছেন; কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে সীমিতসংখ্যক সরকারি শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হাসিবুল হাসান জানান, বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের শিক্ষক সংকট নিরসনে মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) আওতাধীন। এ বিষয়ে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মঞ্জুরকেও অবহিত করা হয়েছে। আমরা আশা করছি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে এবং শিগগিরই বিদ্যালয়টির শিক্ষক সংকট নিরসন হবে।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
স

সুমিত রয়

প্রতিবেদক

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, ডেইলি বরিশাল। সাংবাদিকতায় ৫ বছরের অভিজ্ঞতা।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ