মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬
৫ই কার্তিক, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

জাতীয়

‘সৌদি জেল থেকে ১৫ দিন আগেও ফোন করেছিল সুইটি’

‘সৌদি জেল থেকে ১৫ দিন আগেও ফোন করেছিল সুইটি’...

ম
মুনতাসির মাহমুদ· বার্তা সম্পাদক
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ২:৪৪ পিএমসর্বশেষ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ২:৪৪ পিএম
‘সৌদি জেল থেকে ১৫ দিন আগেও ফোন করেছিল সুইটি’

প্রায় ৪ বছর আগে সৌদি আরব যান টাঙ্গাইলের সুইটি আক্তার। প্রথম ৫ মাস বাড়িতে টাকাও পাঠান তিনি। পরে ফোন করে বাড়িতে জানান তাকে কারাগারে নেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে ১৫ দিন আগেও ফোন করেছিলেন। জানিয়েছিলেন জেল থেকে মুক্তি পাবেন কয়েক মাসের মধ্যেই।

কথাগুলো বলছিলেন সুইটির বাবা টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মহেরা ইউনিয়নের নগর ছাওয়ালী গ্রামের বাসিন্দা ফজল মিয়া।

আজ মঙ্গলবার তাদের বাড়িতে গিয়ে প্রতিবেশীদের ভিড় দেখা যায়। তারা জানতে পেরেছেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ সুইটিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে এবং সম্প্রতি তা কার্যকরও করেছে।

পেশায় দিনমজুর ফজল মিয়ার ৫ মেয়ের মধ্যে সবার ছোট সুইটি। ৪ বছর আগে ধার-দেনা করে মেয়েকে সৌদি পাঠিয়েছিলেন।সংবাদমাধ্যমকে ফজল বলেন, 'দালালের মাধ্যমে সৌদিতে চাকরির জন্য পাঠিয়েছিলাম মেয়েকে। এজন্য দেড় লাখ টাকা ধার করেছিলাম। প্রথম ৫ মাস সে বাড়িতে টাকাও পাঠিয়েছিল। পরে একদিন ফোন করে জেলে যাওয়ার খবর জানায়।'

'সুইটি জানিয়েছিল, সেখানে কর্মরত অন্য নারীকর্মীদের সঙ্গে ঝগড়ার পর তাকে ফাঁসিয়ে জেলে দেওয়া হয়েছে। এরপর এক বছর সুইটির খোঁজ পাইনি,' বলেন তিনি।

ফজল আরও বলেন, 'পরে আবার একদিন মেয়ে জেল থেকে ফোন করে। এরপর প্রতিমাসেই বাড়িতে ফোন করে কথা বলত। কিন্তু কোর্টে তার বিচারের কথা বলেনি। শেষদিকে ফোনে জানিয়েছিল দুই মাস পর জেল থেকে মুক্তি পেতে পারে।'

'সবশেষ ১৫ দিন আগেও জেল থেকে বাড়িতে ফোন করে কথা বলে। তখনো সাজার কথা কিছু বলেনি,' বলেন সুইটির বাবা।

তবে, দুদিন আগে তারা জানতে পারেন যে সৌদি সরকার সুইটির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে। যদিও এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পরিবারটিকে কিছু জানানো হয়নি।

সৌদি আরবে সম্প্রতি দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে সরকার জানতে পারলেও, তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

ফজল বলেন, 'আমার মেয়ের ভাগ্যে কী ঘটেছে আমরা জানি না। সে বেঁচে আছে, না মারা গেছে তাও আমরা জানি না। আমরা শুধু মানুষের কাছে উড়ো খবর শুনেছি।'

সুইটির মা জহুরা জানান, সুইটির বিয়ে হয়েছিল এবং তার চার বছরের এক মেয়েও আছে। সুইটি সৌদি যাওয়ার পর তার বড় বোন বিউটি মেয়েটিকে লালনপালনের জন্য তার কাছে নিয়ে যান।

'সরকারের কাছে জানতে চাই আমার মেয়ের কী হয়েছে। আমি আমার মেয়েকে ফেরত চাই। জীবিত হোক, মৃত হোক আমি আমার মেয়েকে চাই,' বলেন জহুরা।

স্থানীয় মহেরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিভাস সরকার নুপুর এবং মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, সুইটির বিষয়ে সরকারের কোনো পর্যায় থেকে তাদের কিছু জানানো হয়নি।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
ম

মুনতাসির মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক

নিউজরুম এডিটর, ডেইলি বরিশাল ডটকম। বার্তা বিভাগে অভিজ্ঞতা ৭ বছর।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ