গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে নিখোঁজের প্রায় ৪০ ঘণ্টা পর শাম্মী আক্তার (১২) নামে পঞ্চম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বাড়ির পাশের একটি বিলের পানিতে ভাসমান অবস্থায় তার লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শিশুটির মৃত্যুর কারণ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
নিহত শাম্মী আক্তার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের পুনতাইড় (নামা চরপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা শহিদুর রহমানের মেয়ে। সে স্থানীয় পুনতাইড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে বাড়ির আশপাশের মাঠে অন্য শিশুদের সঙ্গে ছাগল চড়াতে যায় শাম্মী। প্রতিদিনের মতো মাঠে গেলেও সেদিন আর বাড়ি ফেরা হয়নি তার। দুপুর পেরিয়ে বিকেল হলেও অন্য শিশুরা বাড়িতে ফিরে আসে। কিন্তু শাম্মীর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।
প্রথমে পরিবারের সদস্যরা আশপাশের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের বাড়িতেও খোঁজ নেওয়া হয়। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খুঁজেও তার সন্ধান না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। সময় যত গড়াতে থাকে, ততই বাড়তে থাকে উৎকণ্ঠা।
রাত ৮টা পর্যন্ত মেয়ের কোনো সন্ধান না পেয়ে ওই রাতেই গোবিন্দগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন শাম্মীর বাবা শহিদুর রহমান। এরপর থেকে নিখোঁজ শিশুটিকে খুঁজে পেতে পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় লোকজনও চেষ্টা চালান।
মঙ্গলবার সকালে বাড়ির পাশের একটি বিলের পানিতে মানুষের মতো কিছু একটা ভাসতে দেখেন স্থানীয় এক ব্যক্তি। বিষয়টি দেখে তিনি চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন সেখানে ছুটে আসেন। মুহূর্তের মধ্যে খবর ছড়িয়ে পড়লে বিলের পাড়ে ভিড় করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
পরে পানিতে ভাসমান মরদেহটি উদ্ধার করে তীরে তোলা হয়। এ সময় পরিবারের সদস্যরা সেটি নিখোঁজ শাম্মী আক্তারের মরদেহ বলে শনাক্ত করেন। মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবারে শোকের মাতম শুরু হয়। যে মেয়েকে ফিরে পাওয়ার আশায় স্বজনেরা প্রায় দুই দিন ধরে অপেক্ষা করছিলেন, শেষ পর্যন্ত তার নিথর দেহ উদ্ধার হওয়ায় এলাকায় শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে এ ঘটনায় আইনগত কার্যক্রম শুরু করে পুলিশ।
গোবিন্দগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মীর কায়েস জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে।
তবে কীভাবে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে তদন্তের চূড়ান্ত ফল জানা যায়নি। নিখোঁজ হওয়ার পর প্রায় ৪০ ঘণ্টা পেরিয়ে বিলের পানিতে তার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে অপেক্ষা করছেন পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে এ ঘটনার রহস্য উদঘাটিত হবে বলে আশা করছেন তারা।



