চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পুঁইছুড়ি এলাকার ২ নম্বর ওয়ার্ডের খাদ্যবান্ধব চালের ডিলার ও ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি রশিদ আহমদের শ্যালকের দোকান থেকে ১৫ টাকা মূল্যের খাদ্যবান্ধব চাল জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকাল ৫টার দিকে পশ্চিম পুঁইছুড়ি ২ নম্বর ওয়ার্ডের রোহাইপাড়া এলাকায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তামজীদুর রহমান তন্ময়ের নেতৃত্বে পুলিশ, জনপ্রতিনিধি ও গ্রামপুলিশের সহায়তায় কামরুন্নাহার স্টোরে অভিযান চালিয়ে ৫০ কেজি ওজনের ৯ বস্তা খাদ্যবান্ধব চাল জব্দ করা হয়।
এ সময় দোকানের মালিক স্থানীয় মৃত মফিজুর রহমানের ছেলে ইয়াহিয়াকে (৩৬) ১ হাজার টাকা জরিমানা ও মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
জব্দকৃত চালগুলো তার বোনজামাই বিএনপি নেতা খাদ্যবান্ধব ডিলার রশিদ আহমদের কাছ থেকে ক্রয় করেছেন বলে তিনি স্বীকারোক্তি প্রদান করেন।
রশিদ আহমদ পুঁইছুড়ি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি এবং সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার বলে জানা যায়।
ইয়াহিয়ার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রশিদ আহমদের মালিকানাধীন মেসার্স চিটাগাং স্টোরে তল্লাশি চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে অভিযানের খবর পেয়ে তিনি সেখান থেকে সরে যান বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
পুঁইছুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য মো. রিদুওয়ান বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে ওই দোকানে সরকারি চাল বিক্রি করার খবর পেয়ে চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে গেলে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়।
অভিযুক্ত খাদ্যবান্ধব ডিলার রশিদ আহমদ জানান, বাঁশখালীতে প্রতি ইউনিয়নে দুজন করে ৩২ জন খাদ্যবান্ধব ডিলার রয়েছেন। আমরা চালগুলো গুদাম থেকে সংগ্রহ করে ভোক্তাদের কাছে বিতরণ পর্যন্ত ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়। এত খরচ মেটাতে কিছু চাল বিক্রি করলে অসুবিধা কী।
এ বিষয়ে বাঁশখালী উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা মো. সেলিম হেলালি বলেন, তার বিরুদ্ধে পূর্বেও সরকারি চাল খোলাবাজারে বিক্রির অভিযোগ শুনেছি। আজকে তার সত্যতা পাওয়া গেছে। ওই ডিলারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে বাঁশখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তামজীদুর রহমান তন্ময় বলেন, সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল দোকানে মজুত ও বিক্রির দায়ে দোকানমালিক মো. ইয়াহিয়াকে এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ডিলারটি বাতিল করা হয়েছে।



