২০২৪ সালে কুমিল্লার দেবিদ্বারে বাস, ট্রাক ও লরির ত্রিমুখী সংঘর্ষ।
দেশে ২০১৪ সাল থেকে চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত ৭২ হাজার ৭৩৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১ লাখ ২৫ হাজার ৪০৫ জন নিহত এবং ১ লাখ ৭৬ হাজার ২৪৯ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংগঠনটি এই পরিসংখ্যান তৈরি করেছে। জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে আজ বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
সংগঠনটির দাবি, প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে। তবে এ দাবির পক্ষে হাসপাতালভিত্তিক কোনো তথ্য দেয়নি তারা।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী অভিযোগ করেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ভুল পরিবহন নীতিসহ বিভিন্ন সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে রেল ও নৌপথ উপেক্ষিত হয়েছে। বিপরীতে সড়কপথের ওপর মানুষের নির্ভরতা বেড়েছে।
তার অভিযোগ, পরিবহন খাতে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও আইনের দুর্বল প্রয়োগের কারণে ফিটনেসবিহীন যানবাহন এবং লাইসেন্সবিহীন ও পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণহীন চালকেরা অবাধে চলাচলের সুযোগ পেয়েছেন।
মোজাম্মেল হক বলেন, দেশে একের পর এক সড়ক নির্মাণ ও সম্প্রসারণ করা হলেও সমন্বিত গণপরিবহন ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ করা হয়নি। ডেডিকেটেড বাস নেটওয়ার্ক ও পর্যাপ্ত গণপরিবহন গড়ে না ওঠায় মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ ছোট যানবাহনের ওপর মানুষের নির্ভরতা বেড়েছে।
সংগঠনটি সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে বেপরোয়া গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম ছাড়া দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানোর বিষয়গুলো চিহ্নিত করেছে।
এ ছাড়া সড়কের নির্মাণত্রুটি, রোড ডিভাইডারের অভাব, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক, উল্টোপথে যানবাহন চলাচল এবং ট্রাফিক আইনের দুর্বল প্রয়োগকেও দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সড়কে হতাহতের সংখ্যা কমাতে সড়ক পরিবহন খাত পরিচালনায় দেশি-বিদেশি পরিবহন বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সক্ষমতা শক্তিশালী করার দাবি জানিয়েছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি।
একইসঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বাস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, প্রযুক্তির মাধ্যমে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ, চালকদের উন্নত প্রশিক্ষণ এবং যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষা পদ্ধতি আধুনিকায়নের সুপারিশ করেছে সংগঠনটি।
অন্যান্য সুপারিশের মধ্যে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে সার্ভিস লেন নির্মাণ, পথচারীদের নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা, সড়কে প্রয়োজনীয় সংকেত ও মার্কিং স্থাপন, নিয়মিত রোড সেফটি অডিট এবং মেয়াদোত্তীর্ণ গণপরিবহন অপসারণ।
এ ছাড়া পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি বন্ধের পাশাপাশি চালকদের নির্ধারিত বেতন ও নিয়ন্ত্রিত কর্মঘণ্টা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।



