বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬
৭ই কার্তিক, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

সারাদেশ

সাংবাদিক আলিফ হত্যায় বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

সাংবাদিক আলিফ হত্যায় বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য...

র
রাহুল হাসান· প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৪:০৭ পিএমসর্বশেষ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৪:০৭ পিএম
সাংবাদিক আলিফ হত্যায় বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফ হত্যা মামলায় আশিকুর রহমান প্রাঙ্গণ (২১) নামে আরও এক সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১৪।

এদিকে তদন্তে উঠে এসেছে আলিফকে ছয়টি গুলি করে হত্যা করা হয়। এছাড়া গ্রেফতার অপূর্ব হত্যাকাণ্ডের সময় ঘটনাস্থলে ছিলেন এবং তার হেফাজতে অস্ত্রভর্তি ব্যাগ ছিল।

ফলে তদন্তে এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে—হত্যাকাণ্ডে কারা সরাসরি অংশ নিয়েছিল, অস্ত্র কোথা থেকে এসেছিল, হত্যার নির্দেশদাতা কে এবং আলিফকে হত্যার পেছনে সুনির্দিষ্ট কারণ কী ছিল।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে দুর্গাপুর পৌর শহরের শহীদ মিনার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

এসআরবি-১৪ এই তথ্য নিশ্চিত করে জানায়, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার অধিযাচনের প্রেক্ষিতে এসআরবি-১৪, ময়মনসিংহের সদর কোম্পানির একটি দল রাত পৌনে ১২টার দিকে ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায়। অভিযানে আলিফ হত্যা মামলার অন্যতম সন্দেহভাজন আশিকুর রহমান প্রাঙ্গণকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দুর্গাপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার সাকের আহমেদ আশিকুর রহমান প্রাঙ্গণকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এসআরবির অভিযানে গ্রেফতারের পর তাকে থানায় হস্তান্তর করা করা হয়েছে। তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর আদালতে পাঠানো হবে।

এর আগে ১৭ অক্টোবর রাতে এ মামলায় সাজিবুল ইসলাম ওরফে অপূর্ব নামে আরেক সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রথমে এক দিন এবং পরে আরও চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

পুলিশ বলছে, অপূর্বকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য যাচাই করা হচ্ছে এবং হত্যাকাণ্ডে একাধিক সূত্র ধরে তদন্ত চলছে।

ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ জাহিদুল হাসানও মঙ্গলবার বিকালে জানিয়েছেন, আলিফ হত্যা মামলার তদন্তে সিআইডি ও পিবিআইকে যুক্ত করা হয়েছে। একজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতারের পর তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং মামলার রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

গত ১৫ অক্টোবর রাতে দুর্গাপুর উপজেলার তেলঞ্জিয়া এলাকায় সাংবাদিক আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ময়নাতদন্তে তার শরীরে ছয়টি গুলির আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। পরদিন তার স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে দুর্গাপুর থানায় অজ্ঞাতনামা ৭-৮ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

আলিফ স্থানীয় আইপি টেলিভিশন ‘রূপসী বাংলা’র প্রতিনিধি ছিলেন। পাশাপাশি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পেজে সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন অনিয়ম, অপরাধ ও নেতিবাচক কর্মকাণ্ড নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করতেন। তার মৃত্যুর পর প্রকাশিত পুরোনো একটি ভিডিওতে তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন।

এদিকে, আলিফ হত্যার পরপরই এসআরবি-১৪-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় কাজ চলছে।

অপূর্বর গ্রেফতার ও রিমান্ডে পাওয়া তথ্যের পর এবার আশিকুর রহমান প্রাঙ্গণের গ্রেফতার তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অপূর্ব হত্যাকাণ্ডের সময় ঘটনাস্থলে ছিলেন এবং তার হেফাজতে অস্ত্রভর্তি ব্যাগ ছিল—এমন তথ্য জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া গেছে। তবে এসব তথ্য এখনো তদন্তাধীন।

ফলে তদন্তে এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে—হত্যাকাণ্ডে কারা সরাসরি অংশ নিয়েছিল, অস্ত্র কোথা থেকে এসেছিল, হত্যার নির্দেশদাতা কে এবং আলিফকে হত্যার পেছনে সুনির্দিষ্ট কারণ কী ছিল। একই সঙ্গে গ্রেফতার দুই সন্দেহভাজনের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে ঘটনাস্থল, ডিজিটাল তথ্য ও অন্যান্য আলামতের মিল আছে কি না, সেটিও যাচাই করা হচ্ছে।

এসআরবি-১৪ জানিয়েছে, মামলার অন্য পলাতক সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার এবং তাদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
র

রাহুল হাসান

প্রতিবেদক

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, ডেইলি বরিশাল। সাংবাদিকতায় ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ