নাটোরের বড়াইগ্রামের বনপাড়ায় বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১২ জনের মধ্যে রয়েছেন দুই গাড়ির চালক। এ ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয়ের দুই চালককে আসামি করে থানায় মামলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে বড়াইগ্রাম থানায় মামলাটি করেন বনপাড়া হাইওয়ে থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আকবর হোসেন।
এর আগে মঙ্গলবার ভোরে বনপাড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের সামনে নাটোর-পাবনা মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১২ জন নিহত ও ৩০ জন আহত হন। দুর্ঘটনায় ট্রাকের চালক আবুল কালাম আজাদ (৩২) ও বাসের চালক সোহেল রানাও (৩৬) নিহত হয়েছেন।
বনপাড়া হাইওয়ে থানা সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার ভোরে কুয়াকাটা থেকে ছেড়ে আসা চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী আরপি স্পেশাল পরিবহণের বাসটির সঙ্গে পঞ্চগড় থেকে আসা বালুবোঝাই ট্রাকটির মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। পরে রাতে পুলিশ বাদী হয়ে মামলাটি করে। মামলায় দুই পরিবহণের অজ্ঞাতপরিচয় চালকদের আসামি করা হয়েছে।
এদিকে, স্বজনদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যার মধ্যেই সব লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বনপাড়া হাইওয়ে থানার ইনচার্জ (উপপরিদর্শক) আলমগীর হোসেন। তিনি বলেন, হতাহত ব্যক্তিরা সবাই ভিন্ন জেলার বাসিন্দা। তারা কেউ বাদী হয়ে মামলা করার জন্য থানায় আসেননি। তাই পুলিশ বাদী হয়ে সড়ক নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছে। পুলিশ এ বিষয়ে কাজ করছে। তদন্তে আসামি শনাক্ত হলে এবং বেঁচে থাকলে অবশ্যই তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
বড়াইগ্রাম থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার রাতে মামলাটি রেকর্ড হয়েছে। হাইওয়ে থানা মামলাটি তদন্ত করবে।
অভিযুক্ত দুই চালক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন জানিয়ে তাদের নামে মামলা দায়েরের ব্যাপারে জানতে চাইলে বনপাড়া হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক আলমগীর হোসেন বলেন, আমরা নিয়ম অনুযায়ী মামলা করেছি। দুর্ঘটনায় যারা মারা গেছেন, তারা প্রকৃতই চালক না সুপারভাইজার সেটা নিশ্চিত নয়। তবে তদন্তে যদি দুই চালকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয় তাহলে মামলার ফাইনাল দেওয়া হবে। আর কোনো গাড়ির ফিটনেসের সমস্যা প্রমাণ হলেই সেই গাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



