নেত্রকোণার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির ওরফে আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আজ বুধবার স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ময়মনসিংহের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত রাতে এসআরবি-১৪ বিশেষ অভিযান চালিয়ে দুর্গাপুর পৌর এলাকা থেকে আশিকুর রহমান প্রাঙ্গন (২১) নামে ওই যুবককে গ্রেপ্তার করে।
প্রাঙ্গন দুর্গাপুর পৌর শহরের বাগিচাপাড়া এলাকার কাচারির মোড়ের বাসিন্দা।
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘গ্রেপ্তার প্রাঙ্গন এলাকায় “শুটার শামিম” নামে পরিচিত এক সন্ত্রাসীর ভাগ্নে। শুটার শামিমের বিরুদ্ধে থানায় কমপক্ষে তিনটি হত্যা মামলাসহ অন্তত ৩০টি মামলা রয়েছে।
তিনি জানান, তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হবে।
এসআরবি সূত্র জানায়, সাংবাদিক আলিফ হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তার অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে এসআরবি-১৪ কোম্পানির একটি দল এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। পরে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় শহীদ মিনার এলাকা থেকে প্রাঙ্গনকে গ্রেপ্তার করে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়।
যোগাযোগ করা হলে এসআরবি-১৪ মিডিয়া বিভাগের সিনিয়র সহকারী পরিচালক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, 'তদন্তের স্বার্থে সব কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে এতটুকু বলতে পারি, প্রযুক্তিগত দিক বিবেচনা করে প্রাঙ্গনকে এ ঘটনার অন্যতম আসামি হিসেবে ধরে নেওয়া যায়।
নিহত লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফ বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোণা প্রতিনিধি ছিলেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন তিনি। ওই পেজে সীমান্ত এলাকার চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও অনিয়ম নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করতেন এই সংবাদকর্মী।
গত ১৫ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে দুর্গাপুর উপজেলার তেলঞ্জিয়া এলাকায় সাংবাদিক আলিফকে গুলি করা হত্যা করা হয়।
পরদিন আলিফের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা দুর্গাপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। তাতে অজ্ঞাতপরিচয় সাত থেকে আটজনকে আসামি করা হয়।
সেই মামলায় ১৮ অক্টোবর অপূর্ব (২২) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল আদালত তাকে চারদিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন।



