রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড় ফেদেরিকো ভালভের্দে ও অরেলিয়েঁ চুয়ামেনি।
রিয়াল মাদ্রিদের ড্রেসিংরুমে সতীর্থ ফেদেরিকো ভালভের্দের সঙ্গে বিবাদ নিয়ে অবশেষে মুখ খুলেছেন অরেলিয়েঁ চুয়ামেনি। ২০২৫-২৬ মৌসুমের শেষ দিকে দুজনের মধ্যে ঘটে যাওয়া বিতর্কিত ঘটনা নিয়ে এত দিন চুপ থাকলেও এবার ফরাসি মিডফিল্ডার জানিয়েছেন, তাদের মধ্যে কোনো মারামারি হয়নি। তার দাবি, ঘটনাটিকে সংবাদমাধ্যম প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি বড় করে দেখিয়েছে।
গত মে মাসে রিয়াল মাদ্রিদের ড্রেসিংরুমে দুই খেলোয়াড়ের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে মাথায় চোট পেয়ে হাসপাতালে যেতে হয়েছিল উরুগুইয়ান মিডফিল্ডার ভালভের্দেকে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর বেশ আলোচনার জন্ম দেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেয় রিয়াল মাদ্রিদ কর্তৃপক্ষ। শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে দুজনের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয় ক্লাবটি। চুয়ামেনি ও ভালভের্দেকে ৫ লাখ ইউরো করে জরিমানাও করা হয়।
ক্লাব সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ প্রকাশ্যে ঘটনাটির গুরুত্ব কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করেছিলেন। পাশাপাশি ড্রেসিংরুমের অভ্যন্তরীণ বিষয় সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হয়ে যাওয়ায় তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
এবার ফ্রান্সের ইএসএন মিডিয়ার ‘দ্য ব্রিজ’ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পুরো ঘটনা নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন চুয়ামেনি। তার দাবি, ভালভের্দের সঙ্গে শারীরিক সংঘর্ষে জড়ানোর যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, তা সত্য নয়।
চুয়ামেনি বলেছেন, ‘আমি বিষয়টি পরিষ্কার করতে চাই। আমাদের মধ্যে কোনো মারামারি হয়নি। হ্যাঁ, ড্রেসিংরুমে নানা ঘটনা ঘটে, এটা সত্যি। কিন্তু আমাদের মধ্যে কখনো মারামারি হয়নি।
ড্রেসিংরুমের পরিবেশ কিছু সময়ের জন্য খারাপ হয়ে গিয়েছিল বলে স্বীকার করেছেন ফ্রান্সের এই ফুটবলার। তবে তার মতে, ঘটনাটিকে ঘিরে সংবাদমাধ্যমে যে আলোচনা হয়েছে, তা বাস্তব পরিস্থিতির চেয়ে বেশি গুরুতর দেখানো হয়েছে।
চুয়ামেনির ভাষায়, ‘ড্রেসিংরুমে ছোটখাটো ধাক্কাধাক্কি কিংবা এ ধরনের ঘটনা ঘটতেই পারে। কিন্তু ভালভের্দের সঙ্গে কখনো হাতাহাতিতে জড়াইনি। এটা ঠিক যে অপ্রীতিকর কিছু একটা ঘটেছিল।
কেন ঘটনাটি এত বড় হয়ে উঠল, সেই ব্যাখ্যাও দিয়েছেন চুয়ামেনি। তার মতে, রিয়াল মাদ্রিদের মতো ক্লাবে খেললে ছোটখাটো বিষয়ও সংবাদমাধ্যমে বড় আকার ধারণ করে।
চুয়ামেনি বলেন, ‘এসবের একমাত্র সমস্যা হলো আপনি যখন রিয়াল মাদ্রিদে খেলবেন, তখন সামান্য কোনো ঘটনাও অতিরঞ্জিত হয়ে যায়। সেটি সংবাদমাধ্যমের বড় আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়। যে ঘটনা হয়তো কোনো সমস্যাই ছিল না, শেষ পর্যন্ত সেটিই বড় সমস্যায় পরিণত হয়।



