শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬
৮ই কার্তিক, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

জাতীয়

স্কুলের ডিজিটাল রূপান্তরে ২১৯০০ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাব

স্কুলের ডিজিটাল রূপান্তরে ২১৯০০ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাব...

ম
মুনতাসির মাহমুদ· বার্তা সম্পাদক
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৫৪ পিএমসর্বশেষ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৫৪ পিএম
স্কুলের ডিজিটাল রূপান্তরে ২১৯০০ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাব

ডিজিটাল শিক্ষার প্রসারের অংশ হিসেবে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শ্রেণিকক্ষগুলোর আধুনিকায়ন, পাঠদানের মান উন্নতকরণ এবং শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে দুটি বড় প্রকল্পে প্রায় ২১ হাজার ৯০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে সরকার।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) প্রস্তাবনা অনুযায়ী, মোট ২০ হাজার ৭৬৭টি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অর্ধেকই এই দুই প্রকল্পের আওতায় থাকবে। প্রকল্প দুটি ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০৩১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার গবেষণা কর্মকর্তা সিফাতুল ইসলাম বলেন, এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য—প্রযুক্তির প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ানো এবং নিজেদের প্রজেক্ট তৈরির ক্ষেত্রে তাদের হাতে-কলমে সহায়তা দেওয়া।

তিনি আরও বলেন, প্রথাগত শ্রেণিকক্ষের পাঠদান পদ্ধতি অনেক সময় শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখতে পারে না। এছাড়া পরিবর্তিত সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের জন্য বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধাগুলো যথেষ্ট নয়।

প্রস্তাবিত দুটি প্রকল্পের মধ্যে বড়টির নাম ‘এনহ্যান্সিং টেকনোলজিক্যাল ক্যাপাসিটি অ্যান্ড এস্টাবলিশিং স্মার্ট লার্নিং এনভায়রনমেন্ট ইন সেকেন্ডারি অ্যান্ড হায়ার সেকেন্ডারি এডুকেশনাল ইনস্টিটিউশন্স’। ১৮ হাজার ৫০৫ কোটি টাকার এই প্রকল্পের লক্ষ্য হলো—স্কুলগুলোতে প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষার প্রসার ঘটানো।

দ্বিতীয় প্রকল্পটি হলো—‘নেক্সট-জেন সেকেন্ডারি এডুকেশন প্রোগ্রাম’ (এনজিইপি), যার ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৩৯৭ কোটি টাকা। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য—শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, শ্রেণিকক্ষের সংখ্যা বাড়ানো এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও ব্যবহারিক শিক্ষার জন্য সুযোগ-সুবিধা উন্নত করা।

মাউশির পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার পরিচালক অধ্যাপক মীর জাহীদা নাজনীন জানান, এনজিইপি প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ হয়েছে। বর্তমানে এটি অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে।

সম্প্রতি তিনি সাংবাদিকদের জানান, ১৮ হাজার ৫০৫ কোটি টাকার প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে।

নাজনীন আরও বলেন, আগের প্রকল্পগুলোতে ডিজিটাল ও মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ তৈরির যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, এটি তার চেয়ে ভিন্ন হবে।

কর্তৃপক্ষ বিদ্যমান অবকাঠামো সম্প্রসারণের বিষয়টি বিবেচনা করবে। বিশেষ করে গবেষণাগারের জন্য আরও তিনটি কক্ষের জায়গা করতে ভবনগুলোকে ওপরের দিকে বাড়ানো সম্ভব কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) তথ্য বলছে, সারাদেশে ২০ হাজার ৭৬৭টি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ৮৯ লাখ শিক্ষার্থীর বিপরীতে প্রায় ৩ লাখ ২৮ হাজার শিক্ষক রয়েছেন।

এদিকে, শিক্ষাবিদরা বড় আকারের এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের আগে সুপরিকল্পিত প্রস্তুতি এবং প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা যাচাইয়ের ওপর জোর দিয়েছেন।

তারা বলেন, স্কুলে কম্পিউটার, উচ্চগতির ইন্টারনেট কিংবা ইন্টারঅ্যাক্টিভ ডিজিটাল বোর্ড দিলেই শিক্ষার মান রাতারাতি বেড়ে যাবে না। মূল চ্যালেঞ্জ হলো—কেবল সরঞ্জাম বা অবকাঠামো না বাড়িয়ে বিপুল এই বিনিয়োগকে কীভাবে কার্যকর পাঠদান ও শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে কাজে লাগানো যায়।

তারা আরও বলেন, অতীতেও স্কুলে প্রযুক্তি যুক্ত করার এমন অনেক উদ্যোগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছিল।

এরকম একটি উদ্যোগ ছিল ‘আইসিটি ফর এডুকেশন’ প্রকল্প, যা মাউশি এক দশকেরও বেশি সময় আগে দুই ধাপে শুরু করেছিল। প্রথম ধাপে, ২০১৫ সালে ২৯৪ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের মাল্টিমিডিয়া সরঞ্জাম ২৩ হাজার ৩৩১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেওয়া হয়।

তিন বছর পর, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) এক মূল্যায়নে দেখা যায়, জরিপ করা শিক্ষকদের মধ্যে ২৪ শতাংশের ল্যাপটপ নষ্ট হয়ে গেছে এবং ১৪ শতাংশের প্রজেক্টর ব্যবহারের অনুপযোগী। এছাড়া ৫৬ শতাংশ শিক্ষক জানান, তারা যে প্রশিক্ষণ পেয়েছিলেন, তা মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট তৈরির জন্য যথেষ্ট ছিল না।

২০১৬ সালে শুরু হওয়া দ্বিতীয় ধাপের লক্ষ্য ছিল ৩৬ হাজার ৮৪টি শ্রেণিকক্ষকে প্রযুক্তিগত সরঞ্জামে সজ্জিত করা। এক হাজার ৩৪৮ কোটি টাকার এই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল—২০২০ সালের জুন মাসে। কিন্তু চারবার সময় বাড়িয়েও সর্বশেষ ২০২৬ সালের জুন মাসের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হয়নি।

শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকার এখন প্রকল্পটিকে পুনর্বিবেচনা ও পুনরুজ্জীবিত করার বিষয়টি বিবেচনা করছে।

সরকারের আরেকটি উদ্যোগ ছিল ২০১৪ সালে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের চালু করা ২৯৯ কোটি টাকার ‘শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব প্রকল্প’, যার লক্ষ্য ছিল—দুই ধাপে স্কুলগুলোতে ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন করা।

প্রথম ধাপে, ২০১৫ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ৩৯৮ কোটি টাকা (সংশোধিত ব্যয়) ব্যয়ে ৪ হাজার একটি ল্যাব স্থাপন করা হয়।

২০২০ সালে ৯৩৯ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির দ্বিতীয় ধাপ অনুমোদন করা হয়। এর লক্ষ্য ছিল—আরও ৫ হাজার ল্যাব স্থাপন করা এবং ৩০০টি নির্বাচিত স্কুলকে স্কুল অব ফিউচার হিসেবে গড়ে তোলার জন্য আধুনিক ডিজিটাল শিক্ষা সুবিধা দেওয়া।

২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের নির্দেশে তৈরি একটি শ্বেতপত্রে উঠে আসে, এই ল্যাবগুলোতে সরঞ্জামের অভাব, রক্ষণাবেক্ষণের অব্যবস্থাপনা এবং রাজনৈতিক বিবেচনায় স্কুল নির্বাচনের মতো গুরুতর ত্রুটি ছিল।

এই শ্বেতপত্র প্রণয়নকারী কমিটির প্রধান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম নিয়াজ আসাদুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ল্যাবে এমন সব যন্ত্রপাতি দেওয়া হয়েছিল, যেগুলোতে প্রয়োজনীয় সফটওয়্যারই ছিল না। এছাড়া ডিজিটাল ডিভাইসগুলো চালানোর মতো পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণও শিক্ষকদের দেওয়া হয়নি।

অধ্যাপক নিয়াজ জানান, ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে তিনি দেখেছেন, যেসব স্কুলে এই ডিজিটাল ল্যাব ছিল, সেখানে পাসের হার বা জিপিএ-৫ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসেনি।

সরকারের নতুন এই উদ্যোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ২১ হাজার ৯০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের আগে সরকারকে অবশ্যই ব্যাখ্যা করতে হবে, এই প্রকল্পগুলো কীভাবে শিক্ষার্থীদের শিখন উন্নত করবে।

তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিশাল এই বিনিয়োগের আগে একটি নিরপেক্ষ মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। এছাড়া কেনাকাটায় স্বচ্ছতা আনা এবং ল্যাবগুলো রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আলাদা তহবিল রাখা অত্যন্ত জরুরি।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব এডুকেশনাল ডেভেলপমেন্ট’-এর প্রোগ্রাম প্রধান সমীর রঞ্জন নাথ বলেন, কম্পিউটার, গবেষণাগারের সুবিধা এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে আগে যে বিনিয়োগ করা হয়েছিল, তা শিক্ষকদের দৃষ্টিভঙ্গিতে কোনো পরিবর্তন এনেছে কি না এবং শ্রেণিকক্ষে শেখার পরিবেশ উন্নত করেছে কি না—সরকারের তা আগে খতিয়ে দেখা উচিত।

তিনি মত দেন, নতুন নতুন প্রকল্প হাতে না নিয়ে সরকার বরং স্কুলগুলোতে আগে থেকেই সরবরাহ করা সরঞ্জামগুলোর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর অগ্রাধিকার দিতে পারে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের ওপর ডিজিটাল সরঞ্জামগুলোর ব্যবহার নিয়মিত তদারকির দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে।

সমীর রঞ্জন নাথ আরও বলেন, অনেক সময় বড় বড় প্রকল্প নেওয়া হয় মূলত সরকারি অর্থ ব্যয়ের উদ্দেশ্যে, শিক্ষার প্রকৃত প্রয়োজন মেটানোর জন্য নয়।

তিনি বলেন, সরকারি কেনাকাটায় অনিয়ম আমাদের দেশের একটি দীর্ঘস্থায়ী ব্যাধি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষকদের ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের অনীহার কারণেও প্রকল্প বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হয়।

২০২০-২১ সালে ব্যানবেইসের এক গবেষণায় ৩৮৪টি মাধ্যমিক স্কুল ও মাদ্রাসার তথ্য নেওয়া হয়। এতে দেখা যায়, সেখানে থাকা ১ হাজার ৬৫৫টি আইসিটি সরঞ্জামের মধ্যে ২১৫টি কখনো ব্যবহারই করা হয়নি এবং ২৪৮টি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে পড়ে আছে।

সমীর রঞ্জন নাথ বলেন, কোভিড-১৯ মহামারির সময় শিক্ষার্থীরা মোবাইল ফোনের মতো ডিজিটাল ডিভাইসগুলোর অপব্যবহার করায় অনেক শিক্ষকের মনে প্রযুক্তির প্রতি এক ধরনের অনাগ্রহ তৈরি হয়েছে। সেসময় শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের পথে আনা শিক্ষক ও অভিভাবক সবার জন্যই বেশ কঠিন ছিল।

প্রযুক্তিভিত্তিক প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো—শহর ও গ্রামের মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহারের বৈষম্য।

‘আইসিটি অ্যাকসেস অ্যান্ড ইউজ বাই হাউজহোল্ডস অ্যান্ড ইনডিভিজুয়ালস সার্ভে ২০২৪-২৫’-এর তথ্য অনুযায়ী, শহরের প্রায় ৬৫ শতাংশ বাড়িতে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা থাকলেও গ্রামে এই হার মাত্র ৫০ দশমিক ৫ শতাংশ। কম্পিউটার মালিকানার ক্ষেত্রে এই ব্যবধান আরও প্রকট; শহরের ২১ দশমিক ১ শতাংশ পরিবারের কম্পিউটার থাকলেও গ্রামে এই হার মাত্র ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।

১৮ হাজার ৫০৫ কোটি টাকার প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য—শহর ও গ্রামের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডিজিটাল বৈষম্য কমিয়ে আনা এবং সবাইকে প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষার সমান সুযোগ দেওয়া।

এই প্রকল্পের আওতায় ১০ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১ লাখ শ্রেণিকক্ষে ইন্টারঅ্যাক্টিভ ডিজিটাল প্যানেল (স্মার্ট বোর্ড) বসানো হবে। এছাড়া প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে ১০০ এমবিপিএস গতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া হবে।

প্রস্তাবনা অনুযায়ী, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য ডিজিটাল আইডি নম্বর ও স্মার্ট কার্ড দেওয়া হবে। পাশাপাশি পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং শিক্ষা উপকরণ সংরক্ষণের জন্য একটি ডিজিটাল লাইব্রেরি তৈরি করা হবে।

মাউশি কর্মকর্তারা জানান, শিক্ষকদের ট্যাবলেট কম্পিউটার দেওয়া হবে এবং তাদের ডিজিটাল পদ্ধতিতে পাঠদানের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এই প্রশিক্ষণ কেবল কম্পিউটার বা যন্ত্র চালানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং ডিজিটাল সরঞ্জাম ব্যবহার করে পাঠদানকে কীভাবে আরও আকর্ষণীয় করা যায়, শিক্ষাদান পদ্ধতি উন্নত করা যায় এবং শিক্ষার্থীদের শেখার চাহিদাগুলো কীভাবে ভালোভাবে বোঝা যায়—সেদিকেই মূলত জোর দেওয়া হবে।

৩ হাজার ৩৯৭ কোটি টাকার ‘এনজিইপি’ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য—শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করা, শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বাড়ানো এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের সুযোগ বাড়ানো।

এই প্রকল্পের জন্য সরকার ৫৬৬ কোটি ৯ লাখ টাকা দেবে এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) দেবে ২ হাজার ৬৬২ কোটি টাকা। এ ছাড়া গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশন (জিপিই) থেকেও বাড়তি সহায়তা পাওয়া যাবে।

এই প্রকল্পের আওতায় ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৬৪৩ শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তাকে মূল্যায়ন পদ্ধতি ও ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরির ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, উপজেলা পর্যায়ের ১ হাজার স্কুলে ভার্টিক্যাল এক্সপানশন মডেল ব্যবহার করে অন্তত ৩ হাজার নতুন শ্রেণিকক্ষ তৈরি করা হবে।

প্রকল্পটির লক্ষ্য—বিশেষায়িত সুবিধার মাধ্যমে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষাকে আরও শক্তিশালী করা। এজন্য ১ হাজার ৫০টি মাধ্যমিক স্কুলে অন্তত ২ হাজার ১০০টি আইসিটি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ল্যাব স্থাপন করা হবে। এসব ল্যাবে রোবোটিক্স, থ্রিডি প্রিন্টিং, মেশিন লার্নিং এবং উন্নত কম্পিউটিং শেখার বিশেষ জায়গা থাকবে।

প্রস্তাবনায় আরও বলা হয়েছে, ১ হাজার ৫০টি স্কুলের শিক্ষকদের কমন রুম আধুনিকায়ন করা হবে এবং বিজ্ঞান ল্যাবরেটরিগুলোর মানোন্নয়ন করে সেখানে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও গবেষণার সরঞ্জাম দেওয়া হবে।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
ম

মুনতাসির মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক

নিউজরুম এডিটর, ডেইলি বরিশাল ডটকম। বার্তা বিভাগে অভিজ্ঞতা ৭ বছর।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ