রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬
১০ই কার্তিক, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

খেলাধুলা

আফগান সিরিজে নতুন বিতর্ক, আম্পায়ারিং নিয়ে প্রশ্ন তুলল বাংলাদেশ

আফগান সিরিজে নতুন বিতর্ক, আম্পায়ারিং নিয়ে প্রশ্ন তুলল বাংলাদেশ...

ম
মোহাম্মদ আলী· ক্রীড়া সংবাদদাতা
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩১ এএমসর্বশেষ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩১ এএম
আফগান সিরিজে নতুন বিতর্ক, আম্পায়ারিং নিয়ে প্রশ্ন তুলল বাংলাদেশ

ওমানের মাসকাটে আফগানিস্তানের বিপক্ষে অনূর্ধ্ব-১৯ ওয়ানডে সিরিজে আম্পায়ারিং নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সিরিজের দুটি ম্যাচে আম্পায়ারদের কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে (এসিবি) চিঠি দিয়েছে বিসিবি। পাশাপাশি সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে আফগান অধিনায়ক সোহেল খান নির্ধারিত সীমার বাইরে গিয়ে ১১ ওভার বোলিং করেছেন বলেও অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ দল।

বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের প্রধান কোচ হান্নান সরকার জানিয়েছেন, আম্পায়ারদের বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলো অধিনায়কের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ১১ ওভার বোলিংয়ের অভিযোগ জানাতেও প্রতিবেদনের সঙ্গে আলাদা একটি নোট যুক্ত করা হয়েছে।

ক্রিকইনফোর তথ্য অনুযায়ী, মাসকাটে ম্যাচ রেফারি ইয়াসির লতিফজাইয়ের সঙ্গে দুই দফায় দীর্ঘ আলোচনা করেছেন বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্ট। এ সময় সন্দেহজনক এলবিডব্লিউ সিদ্ধান্তের ভিডিও এবং আফগান অধিনায়কের ১১ ওভার বোলিংয়ের ফুটেজও দেখানো হয়।

৫০ ওভারের ওয়ানডেতে একজন বোলার সর্বোচ্চ ১০ ওভার করতে পারেন। বাংলাদেশের অভিযোগ, সিরিজের তৃতীয় যুব ওয়ানডেতে আফগান অধিনায়ক সোহেল খান নিজের নির্ধারিত ১০ ওভার শেষ করার পরও আরও এক ওভার বোলিং করেন। তবে স্কোরকার্ডে ওই ওভারটি শাহ ফয়সাল রহিমির নামে নথিভুক্ত করা হয়। বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্টের দাবি, ওভারটি আসলে করেছিলেন সোহেল।

হান্নান সরকার বলেন, ‘আমরা আম্পায়ারদের সিদ্ধান্তগুলোর কথা অধিনায়কের প্রতিবেদনে লিখেছি। পাশাপাশি ১১ ওভারের বিষয়টি নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করে একটি বিশেষ নোটও দিয়েছি।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, অধিনায়কের নিয়মিত প্রতিবেদন ফরমে এ ধরনের বিস্তারিত অভিযোগ জানানোর আলাদা জায়গা না থাকায় অতিরিক্ত নোট যুক্ত করা হয়েছিল।

ঘটনাটি কীভাবে ধরা পড়ে, তা ব্যাখ্যা করে হান্নান বলেন, ‘তাদের অধিনায়ক, যিনি দলের প্রধান স্ট্রাইক বোলারও, তৃতীয় ম্যাচে ১১ ওভার বোলিং করেন। আমাদের কাছে অফিশিয়াল স্কোরারের সরাসরি তথ্য ছিল না। তাই দলের ম্যানেজারের ফোনে ক্রিকইনফোর স্কোরকার্ড দেখে আমরা হিসাব রাখছিলাম। আমাদের বিশ্লেষকের রেকর্ড অনুযায়ী, সোহেল এরই মধ্যে ১০ ওভার বোলিং করে ফেলেছিলেন। বিষয়টি যখন আমাদের নজরে আসে, তখন তিনি নতুন ওভার শুরু করে দিয়েছেন। ওভারটি শেষ হওয়ার পরই আমরা আম্পায়ারদের জানাই। কিন্তু ততক্ষণে ওভারটি শেষ হয়ে গিয়েছিল।

বাংলাদেশের কোচ আরও জানান, ম্যাচ রেফারিকে ওই ওভারের ভিডিও দেখিয়ে স্কোরকার্ডে ভুল নথিভুক্তির বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তার দাবি, আফগানিস্তানের আরেক বোলার আম্পায়ারের কাছে নিজের ক্যাপ জমা দিয়েছিলেন। পরে সেই ক্যাপ ফিরিয়ে নেওয়া হয় এবং অধিনায়ক নিজেই বোলিং করেন। কিন্তু স্কোরার বিষয়টি খেয়াল না করায় ওভারটি অন্য বোলারের নামে লিখে ফেলেন।

হান্নানের ভাষ্য, ‘অফিশিয়াল স্কোরার সোহেল খানের নামে ১০ ওভার নথিভুক্ত করেছিলেন। ভুল করে একটি ওভার এমন একজন বোলারের নামে দেওয়া হয়, যিনি আসলে ওই ওভারটি করেননি। ওই খেলোয়াড় তার ক্যাপ আম্পায়ারের কাছে দিয়েছিলেন, পরে সেটি ফিরিয়ে নেন। এরপর অধিনায়ক বোলিং করেন। স্কোরার বিষয়টি বুঝতে পারেননি এবং ওভারটি অন্য খেলোয়াড়ের নামে লিখে দেন।

সিরিজের চতুর্থ ম্যাচের পরও আম্পায়ারদের কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি তোলে বাংলাদেশ। এলবিডব্লিউ ও ক্যাচের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন ছিল দলের। এসব বিষয় নিয়ে দুই দলের কোচিং স্টাফদের মধ্যে তর্কও হয়। পরে অবশ্য তারা করমর্দন করেন এবং বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন।

এরপর বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটি, যারা অনূর্ধ্ব-১৯ দল দেখভাল করে, আম্পায়ারিং নিয়ে নিজেদের উদ্বেগ জানিয়ে এসিবিকে ইমেইল পাঠায়। বিসিবির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘দ্বিপক্ষীয় সিরিজে কী ঘটেছে, সে বিষয়ে তাদের শুধু অবহিত করতেই আমরা চিঠি দিয়েছি। ভবিষ্যতে যেন আরও সতর্ক থাকে, সে বিষয়ে তাদের সতর্ক করেছি।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
ম

মোহাম্মদ আলী

ক্রীড়া সংবাদদাতা

খেলাধুলা বিভাগের বিশেষ সংবাদদাতা।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ