দীর্ঘ ১১ দিনের অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটেছে। অবশেষে ভারতের চেন্নাইয়ে বাসার ছাদে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যাওয়া প্রবাসী মো. লিটনের (২২) লাশ দেশে ফিরেছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে পরিবারের সদস্যরা তার লাশ বুঝে পান।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার বাগানবাজার ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পানুয়া এলাকায় জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।
লিটন উপজেলার সীমান্তবর্তী বাগানবাজার ইউনিয়নের পানুয়া এলাকার বড়বাড়ির বাসিন্দা আলকাস মিয়ার বড় ছেলে।
গত ২০ অক্টোবর ‘লিটনের লাশ ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তা’ শিরোনামে সংবাদমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি প্রকাশের পর বিষয়টি ভারতে বাংলাদেশ দূতাবাসের নজরে আসে। পরে দূতাবাসের উদ্যোগ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সহযোগিতায় তার লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, সংসারের অভাব-অনটন দূর করার স্বপ্ন নিয়ে প্রায় আট মাস আগে দালালের মাধ্যমে ভারতে পাড়ি জমান লিটন। চেন্নাই শহর থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে পুদুচেরি এলাকায় একটি হোস্টেলে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন তিনি। তার উপার্জনে পরিবারের সচ্ছলতা ফিরবে—এমন স্বপ্ন দেখছিলেন বাবা-মা। পরিবারের বড় ছেলে হওয়ায় তাকে ঘিরে ছিল অনেক আশা-আকাঙ্ক্ষা; কিন্তু সেই স্বপ্ন মুহূর্তেই বিষাদে পরিণত হয়।
গত ১৮ অক্টোবর রোববার দুপুরে চেন্নাইয়ে বাসার ছাদে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান লিটন। তার বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসা না থাকায় লাশ দেশে ফিরিয়ে আনা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়ে পরিবার। একপর্যায়ে ছেলের লাশ দেশে ফিরবে কিনা, তা নিয়েও দুশ্চিন্তায় ছিলেন স্বজনরা। পরে এক কুয়েতপ্রবাসী প্রতিবেশী বাংলাদেশ দূতাবাস ও ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার লাশ দেশে আনার ব্যবস্থা করেন।
লিটনের প্রতিবেশী ফজলে মিয়া বলেন, আমি চেন্নাইয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসে তার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠাই। তিনি যেখানে কাজ করতেন, সেখানকার মালিকের সহযোগিতায় দুই দিনের মধ্যে লাশ দেশে আনার ব্যবস্থা হয়। কাগজপত্র পাঠাতে কিছুটা সময় লেগেছে।
লিটনের ভাই মিলন বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে আমরা ভাইয়ের লাশ বুঝে পাই। গভীর রাতে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসি। শুক্রবার সকালে জানাজা শেষে তাকে দাফন করেছি।
শোকাহত বাবা আলকাস মিয়া বলেন, সবার সহযোগিতায় ছেলের লাশ বুঝে পেয়েছি, এটাই বড় কথা; কিন্তু আমি জীবিত থাকতে নিজের ছেলের লাশ কাঁধে নিতে হবে- এটা অনেক কষ্টের।
স্থানীয় ইউপি সদস্য নুর হোসেন বলেন, বাংলাদেশ সরকারের আন্তরিকতায় লাশ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। তা না হলে হয়তো তাকে সেখানেই দাফন করতে হতো।



