শেরপুরের নকলা উপজেলার চন্দ্রকোনা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে জাল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের স্বাক্ষর জাল করে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করার অভিযোগ উঠেছে। ২০১৫ সালের ২৮ জুলাই নিয়োগ দেখিয়ে ২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি আলিয়া খাতুন নামের এক শিক্ষককে যোগদান করানোর অভিযোগ উঠেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের (ডিজি) প্রতিনিধি, প্রধান শিক্ষক, শিক্ষক প্রতিনিধি, সংরক্ষিত নারী শিক্ষক প্রতিনিধি, অভিভাবক প্রতিনিধি ও সংরক্ষিত নারী অভিভাবক প্রতিনিধির স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। পাশাপাশি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিও জাল করে তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রধান শিক্ষক মোখলেছুর রহমান ওই নিয়োগের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, সংশ্লিষ্ট সময়ে বিদ্যালয়ে এ ধরনের কোনো নিয়োগ দেওয়া হয়নি এবং আলিয়া খাতুন নামে যে শিক্ষিকা আছেন, তাকে চেনেন না তিনি।
একই অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষক প্রতিনিধি মো. জাবেদ আলী ও মো. স্বপন খান। তাদের দাবি, নিয়োগসংক্রান্ত নথিতে তাদের স্বাক্ষর জাল করে ব্যবহার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
অন্যদিকে, অভিভাবক প্রতিনিধি নূর মোহাম্মদও নিয়োগের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তার অভিযোগ, নিয়োগসংক্রান্ত কাগজপত্রে তার স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনিও।
শিক্ষক নিয়োগের সত্যতা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পর্যালোচনা করা হয়েছে বলে অভিযোগকারীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, পর্যালোচনা করা নথিতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির সত্যতা নিয়ে গুরুতর অসংগতি পাওয়া গেছে। এ ছাড়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির প্রকাশনা যাচাই করতে সংবাদমাধ্যম ও স্থানীয় দৈনিক তথ্যধারার সংশ্লিষ্ট দিনের পত্রিকার কপি সংগ্রহ করা হয় বলে তারা জানান। তবে সংগৃহীত পত্রিকায় চন্দ্রকোনা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির কলাম খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগকারীদের দাবি। এ বিষয়ে পত্রিকার সংশ্লিষ্ট দিনের মূল কপি ও প্রকাশনা রেকর্ড যাচাই করে সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
চন্দ্রকোনা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষিকা আলেয়া খাতুন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যথাযথ নিয়ম অনুযায়ী আমার নিয়োগ হয়েছে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক মো. শরিফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি আমার অনেক আগে হয়েছে। সে বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তবে বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রেজুয়ান সাংবাদিকদের বলেন, ২০২৪ সালে স্থানীয়ভাবে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ নিয়োগের বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে জানান।



