মাধুরী দীক্ষিতের বিয়ের খবরে একসময় মন ভেঙেছিল বিশ্বের কোটি কোটি অনুরাগীর। অভিনয়জীবনের মধ্যগগনে থাকা অবস্থায় চিকিৎসক শ্রীরাম নেনেকে জীবনসঙ্গী বেছে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন বলিউডের এই লাস্যময়ী অভিনেত্রী।
আলো ঝলমলে রূপালি পর্দা থেকে দূরে কেটে গিয়েছে দীর্ঘ ২৭টি বছর। তবে এত বছর পরেও তাদের অটুট ও মধুর দাম্পত্য সম্পর্ক আজও অনেকের কাছেই এক অনন্য উদাহরণ। আর এই দীর্ঘ পথচলার নেপথ্যেই বা কী রহস্য রয়েছে, তা নিয়ে সম্প্রতি মুখ খুলেছেন মাধুরীর স্বামী ডা. শ্রীরাম নেনে।
নেনের সঙ্গে সংসার শুরুর আট বছর পর, ২০০৭ সালে ‘আজ নাচ লে’ ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন ঘটেছিল মাধুরীর। পরবর্তীতে ‘ইয়ে জওয়ানি হ্যায় দিওয়ানি’ ছবির ‘ঘাগরা’ গানে তার পারফরম্যান্স আজও দর্শকদের মনে গেঁথে রয়েছে। ২০১১ সালে পাকাপাকি ভাবে মুম্বাইয়ে ফিরে আসার পর ‘ভুলভুলাইয়া ৩’, ‘মিসেস দেশপাণ্ডে’ কিংবা ‘মা বহেন’-এর মতো ভিন্ন স্বাদের প্রজেক্টেও নজর কেড়েছেন এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী।
অন্যদিকে, সম্প্রতি নতুন এক পরিচয়ে আত্মপ্রকাশ করেছেন শ্রীরাম নেনে। লেখালেখি ও স্বাস্থ্যসচেতনতার জগতে পা রেখে তিনি প্রকাশ করেছেন তার নতুন বই ‘২১ ডেজ টু গুড হেলথ’। বইটির প্রকাশনা উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে উঠে আসে তাদের ব্যক্তিগত জীবনের নানা অজানা কথা। প্রায় তিন দশকের কাছাকাছি সময়েও কীভাবে দুজনের মধ্যে নিখাদ বোঝাপড়া বজায় রয়েছে, সে বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেন এই চিকিৎসক।
শ্রীরামের কথায়, ‘মাধুরী আর আমি ভীষণ ভাগ্যবান। আমাদের চিন্তাভাবনা, খাওয়াদাওয়া এবং জীবনযাপনের ধরন অনেকটাই এক। আমি বিশ্বাস করি, প্রত্যেকেই সুন্দর। তবে শুধু বাইরের সৌন্দর্যের জন্য কিছু করবেন না। নিজের কর্মক্ষমতা এবং সুস্থতার জন্য যা প্রয়োজনীয়, তাই করা উচিত।
দাম্পত্যের সাফল্যের চাবিকাঠি নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি জানান, একে অপরকে সমান চোখে দেখা এবং পারস্পরিক সম্মানই তাদের সম্পর্কের মূল ভিত্তি। সংসারে পুরুষের একচ্ছত্র কর্তৃত্ব বা আধিপত্যের ধারণায় তারা একেবারেই বিশ্বাসী নন। বরং দুজনে মিলেই সমান ভাগে সংসার সামলান।
শ্রীরাম বলেন, ‘আমরা একে অপরের সঙ্গী। আমাদের সংসার পুরনো ধাঁচের নয়, যেখানে একজন পরিবারের প্রধান আর বাকিরা তার ওপর নির্ভরশীল। আমরা দুজনেই একটি পরিবারের সমান অংশীদার। একে অপরকে সম্মান করি। এই পারস্পরিক সম্মানই আমাদের সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে চলেছে।
তিনি আরও জানান, সংসারের ছোট-বড় দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া এবং জীবনের কঠিন সময়ে একে অপরের পাশে থাকাটাই সবচেয়ে জরুরি। এ ছাড়া দুজনেরই নিজস্ব পেশাগত ও কাজের জগৎ রয়েছে, যেখানে কেউ কারো কাজে অযথা হস্তক্ষেপ করেন না।
এদিকে, মাধুরী ও শ্রীরামের সুস্বাস্থ্যের রহস্য নিয়েও অনুরাগীদের কৌতূহলের শেষ নেই। এ প্রসঙ্গে হাসতে হাসতে শ্রীরাম জানান, এর নেপথ্যে কোনো জাদুকরী বা গোপন কৌশল নেই; বরং নিয়মমাফিক জীবনযাপনই তাদের ফিট থাকার চাবিকাঠি।
শ্রীরাম নেনে নিজে বরাবর খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত, আর মাধুরীর জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে নাচ। শ্রীরামের ভাষায়, ‘আমরা দুজনেই নিয়ম মেনে চলি। শরীরচর্চা এবং শৃঙ্খলা আমাদের জীবনযাত্রার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটাই আমাদের সুস্থ থাকতে সাহায্য করে।
চলতি বছরের ১৫ অক্টোবর মাধুরী ও শ্রীরামের দাম্পত্য জীবনের ২৭ বছর পূর্ণ হয়েছে। জীবনের এই দীর্ঘ পথচলায় পারস্পরিক সম্মান, দায়িত্বের সমবণ্টন এবং সবসময় একে অপরের পাশে থাকাই তাদের সম্পর্কের মূল শক্তি—এমনটাই বিশ্বাস এই তারকা দম্পতির।



