আগামী শুক্র ও শনিবার, ৬ ও ৭ নভেম্বর রাজধানীতে হতে যাচ্ছে ৫ম আদিবাসী খাদ্য ও শস্য মেলা ২০২৬।
উন্নয়ন সংগঠন নাগরিক উদ্যোগ ও আদিবাসী সুহৃদদের যৌথ উদ্যোগে মিরপুর ১৩ এলাকার পার্বত্য বৌদ্ধ সংঘ কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে এই মেলা অনুষ্ঠিত হবে। দুদিনই সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এ মেলা।
মেলার আয়োজক রেলী চাকমা সাংবাদিকদের জানান, পাবর্ত্য অঞ্চলের পাশাপাশি সমতলের মান্দি, মনিপুরী, সাঁওতাল ও রাখাইনদের অনেক উদ্যোক্তা, বিশেষ করে নারীরা এরই মধ্যে স্টল বুকিং দিয়েছেন।
নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন জানান, শহুরে নাগরিক জনগোষ্ঠীকে আদিবাসীদের বৈচিত্র্যময় ও সমৃদ্ধ জুম কৃষির বিভিন্ন শস্য ও ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের খাবারের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতেই এ মেলার আয়োজন। এবার নিয়ে টানা পাঁচ বছর আদিবাসী খাদ্য ও শস্য মেলাটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
আয়োজকরা জানান, আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী রন্ধনপ্রণালির তেল ও মসলামুক্ত জনপ্রিয় খাবার নিয়ে অনেক স্টল থাকছে মেলায়। এছাড়া পাহাড়ের জনপ্রিয় বাঁশ কোড়ল, কলা পাতার রান্না করা বিভিন্ন পদের হেবাং রয়েছে। পাহাড়ি মুরগি ও কাপ্তাই হ্রদের মাছসহ জুমের (পাহাড়ের বিশেষ কৃষিপদ্ধতি) সবজির মুখরোচক খাবার থাকছে।
আয়োজকেরা জানিয়েছেন, মেলার বিশেষ আকর্ষণে থাকছে পাহাড়ের বাঁশের হুক্কা। যা বাঁশ দাবা নামে বেশি পরিচিত। থাকবে নানা প্রকার টাটকা ফলের ঝাল আইটেম। এই ঝাল আইটেম 'লাকসো' নামে বেশি পরিচিত। মেলায় আরও থাকছে কালা বিনিসহ বিভিন্ন জাতের বিনি চালের সমাহার। পাহাড়ি মধুও মেলায় পাওয়া যাবে। জুমের শাকসবজি, ফলমূল, বৈচিত্র্যপূর্ণ নানা জাতের কৃষিপণ্যের সমাহার এবং শুঁটকির পসরা নিয়ে অনেক উদ্যোক্তা উপস্থিত হবেন।
আয়োজক মেইনথিন প্রমীলা বলেন, আমাদের দেশে বহুত্ববাদী সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো আদিবাসীদের বৈচিত্রপূর্ণ স্বাদের খাদ্যাভাস। এর সঙ্গে বাঙালি জনগণের খাদ্যাভাসের মেলবন্ধন ঘটানোর প্রয়াস হিসেবে আদিবাসী খাদ্য ও শস্য মেলার আয়োজন।
মেলার পাশাপাশি সন্ধ্যায় মনোজ্ঞ আদিবাসী সাংস্কৃতিক সন্ধ্যাও দর্শনার্থীরা উপভোগ করতে পারবেন। সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় বাংলাদেশ আইডল মং, পাহাড়ের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী বর্ষা চাকমা, বুলু তঞ্চংগ্যা ও গারোদের উদীয়মান গায়ক মার্কুস চিসিমের পরিবেশনা থাকবে। এ ছাড়া থাকছে পাহাড় ও সমতলের আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী নৃত্য পরিবেশনা।



