পোশাকশ্রমিকদের মাসিক মজুরি ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে চলা বিক্ষোভের মধ্যে গাজীপুর ও আশুলিয়ায় পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
আজ সোমবার সকাল থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে শ্রমিকেরা অবস্থান নিতে শুরু করেন।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার (এসপি) আমজাদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘দুপুরে নাওজোর এলাকায় পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যানে এবং সফিপুরে আরেকটি পিকআপ ভ্যানে শ্রমিকেরা আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘শ্রমিক আন্দোলনের কারণে গাজীপুরে এ পর্যন্ত ১৫০টি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
নাওজোর এলাকা থেকেসংবাদমাধ্যমের গাজীপুর সংবাদদাতা জানান, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিআরটি প্রকল্পের শেষ প্রান্তে শতাধিক শ্রমিক জড়ো হন। সে সময় একদল লোককে লাঠি ও লোহার রড হাতে দেখা যায়।
তিনি আরও জানান, ভোগড়া এলাকায় অন্তত ১০০ জনকে লোহার রড হাতে শ্রমিকদের ধাওয়া দিতে দেখা যায়। দৌড়ে চলে যাওয়ার সময় এক শ্রমিককে বলতে শোনা যায়, আন্দোলন চলবে, কিছুক্ষণ পর আবারও আসব।
তবে ওই ব্যক্তিদের পরিচয় সম্পর্কেসংবাদমাধ্যম তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হতে পারেনি।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির প্রচার সম্পাদক হযরত বিল্লাল সাংবাদিকদের বলেন, শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, অপ্রতুল মজুরি ও ট্রেড ইউনিয়ন গঠনে বাধার কারণেই এ আন্দোলন।
‘সহিংসতার দায় সাধারণ শ্রমিকদের ওপর চাপানো যাবে না। মালিকপক্ষ ও অসাধু শ্রমিক নেতাদের সিন্ডিকেট ভেঙে শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা ও স্বাধীনভাবে ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে,’ যোগ করেন তিনি।
এদিকে সাভারের আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকায় পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘দুপুর ১টার দিকে দুইজনকে আটক করা হয়েছে।
‘তারা দুইজন শ্রমিক নাকি বহিরাগত তা যাচাই করা সম্ভব হয়নি,’ বলেন তিনি।



