শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬
২১শে কার্তিক, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

বিনোদন

শাবানা-শাবনূরের ভক্ত থেকে অভিনেত্রী, কেমন ছিল জিমের স্বপ্নযাত্রা?

শাবানা-শাবনূরের ভক্ত থেকে অভিনেত্রী, কেমন ছিল জিমের স্বপ্নযাত্রা?...

স
সুমাইয়া আক্তার· বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৬ নভেম্বর ২০২৬, ৪:০৮ পিএমসর্বশেষ: ৬ নভেম্বর ২০২৬, ৪:০৮ পিএম
শাবানা-শাবনূরের ভক্ত থেকে অভিনেত্রী, কেমন ছিল জিমের স্বপ্নযাত্রা?

অভিনেত্রী মাফতুহা জান্নাত।

শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় শুরু করেছিলেন মাফতুহা জান্নাত। এরপর মাঝখানে পড়াশোনার জন্য বিরতি। শেষে আবার নতুন করে শুরু দর্শকদের কাছে জিম নামে পরিচিতি পাওয়া এ অভিনেত্রীর।

শাবানা ও শাবনূরের ভক্ত ছিলেন তিনি। ছোটবেলায় তাদের সিনেমা দেখে অভিনয়ের স্বপ্ন দেখতেন মাফতুহা জান্নাত। যদিও শুরুটা হয়েছিল নাচ দিয়ে। এরপর শিশুশিল্পী হিসেবে বেশ কিছু বিজ্ঞাপনে কাজ করেছেন তিনি।

সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় অনম বিশ্বাস পরিচালিত ‘দেবী’ সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ পান মাফতুহা জান্নাত। সিনেমাটিতে রানুর (জয়া আহসান) ছোটবেলার স্মৃতিচারণার অংশে তাঁকে দেখা গিয়েছিল। তবে শৈশবের সেই অভিনয় নিয়মিত হয়নি। পড়াশোনার জন্য দীর্ঘদিনের বিরতি। ২০২৩ সালে আবার নতুন করে ফেরা।

বাবু সিদ্দিকীর পরিচালনায় ‘সিক্রেট গার্লফ্রেন্ড’ ছিল মাফতুহা জান্নাতের প্রথম নাটক। কীভাবে সুযোগ মিলল? সে প্রসঙ্গে জিম বলেন, ‘ফেসবুকের মাধ্যমে বাবু সিদ্দিকী ভাইয়ের সঙ্গে পরিচয়। আমার অভিনয়ের আগ্রহের কথা জেনে তিনি সুযোগ দিয়েছিলেন। এভাবেই শুরু।

এরপর মাবরুর রশিদ বান্নাহর ‘যত্ন’। এ প্রসঙ্গে মাফতুহা জান্নাত বলেন, ‘যত্ন’ নাটকটি আমার টার্নিং পয়েন্ট ছিল। এ নাটকের ইরা চরিত্র দর্শকেরা বেশ পছন্দ করেছিলেন। এখনো দর্শক দূর থেকে ইরা নাম ধরে ডাকেন। আরশ খান ভাইয়ের সঙ্গে আমাকে দর্শক খুব পছন্দ করেন। এই কাজ দর্শক পছন্দ করায় সকাল আহমেদ ভাই নির্মাণ করেন ‘দোষটা কার?

এ নাটকেও দর্শক আমাদের জুটি পছন্দ করেন। এ নাটকে চেনা ছকের বাইরে গিয়ে আমাকে চরিত্রের জটিল মনস্তত্ত্ব ফুটিয়ে তুলতে হয়েছিল, যা অভিনেত্রী হিসেবে আমাকে নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে উসকে দিয়েছিল। কাজটি প্রকাশের পর সাধারণ দর্শক ও সমালোচকদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছিলাম। এটা আমার আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল।

সম্প্রতি জিমের আলোচনায় থাকার বড় কারণ হচ্ছে—‘বিষপাখি’, ‘পেট্রোল’ ও ‘আহা একি মায়া’। এ তিন নাটকের গল্প ও চরিত্রে ভিন্নতা রয়েছে। তাঁর কাছেও প্রতিটি কাজের অভিজ্ঞতা আলাদা মনে হয়েছে।

জিম বলেন, ‘দর্শক এখন একঘেয়ে গল্প দেখতে চান না। তিনটি নাটকের গল্প একটির চেয়ে অন্যটি সম্পূর্ণ আলাদা। রোমান্স, ড্রামা থেকে সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার—বিভিন্ন ধরনের গল্পে দর্শক নতুনত্ব পেয়েছেন। প্রতিটি চরিত্রে চেষ্টা করেছি, সাধারণ মানুষ যেন নিজের জীবনের সঙ্গে চরিত্রগুলো মেলাতে পারেন। চরিত্রের চেনা রূপ ও বাস্তবতাই দর্শকদের মন ছুঁয়েছে বলে মনে করি।

জিম বলেন, অনেক নির্মাতা ও প্রযোজক নতুন অভিনেতা-অভিনেত্রীদের নিয়ে ঝুঁকি নিতে চান না। ফলে শুরুতে একই ধরনের চরিত্রের প্রস্তাব বেশি আসে। অভিনয়দক্ষতা প্রমাণের জন্য বৈচিত্র্যময় ও শক্তিশালী চরিত্র পাওয়া নতুনদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, ‘শুরুতে আমাকেও এ ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে। নতুনদেরও প্রতিভা আছে। তাদের সুযোগ দেওয়া দরকার।

অভিনয়ে শরীরী ভাষার গুরুত্বও এই পড়াশোনার মাধ্যমে বুঝতে শিখেছেন।

অভিনেত্রী বলেন, ‘অভিনয়ে শুধু সংলাপ বললেই হয় না। চোখের ইশারা কিংবা শরীরের ছোট্ট কোনো অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমেও অনুভূতি প্রকাশ করা যায়। কীভাবে অতিরঞ্জন না করে একটি চরিত্রের আবেগ ফুটিয়ে তুলতে হয়, নাট্যকলার পড়াশোনা আমাকে তা শিখিয়েছে। স্ক্রিপ্ট পড়ার পর এর ভেতরের মূল ভাবনা বুঝতেও সুবিধা হয়। পরিচালকের চাওয়া অনুযায়ী অভিনয় করতে এটি অনেক সাহায্য করে।

ভবিষ্যতে কোন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করতে চান মাফতুহা জান্নাত? নির্দিষ্ট কোনো নির্মাতার নাম বলতে চাননি তিনি। বরং সব নির্মাতার সঙ্গেই তাঁর কাজ করার আগ্রহ রয়েছে। তবে চরিত্র নির্বাচনের ক্ষেত্রে বৈচিত্র্যকে গুরুত্ব দিতে চান। বিশেষ করে মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা রয়েছে, এমন চরিত্রে অভিনয়ের ইচ্ছা তাঁর। সাদা-কালো বিভাজনের বাইরে পর্দায় তুলে ধরতে চান মানুষের মনের নানা রূপ। পাশাপাশি বাস্তব জীবনের শক্তিশালী নারীদের গল্পও অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের সামনে আনতে চান।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
স

সুমাইয়া আক্তার

বিনোদন প্রতিবেদক

বিনোদন ও জীবনযাপন বিভাগের প্রতিবেদক।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ