আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়া বছরে আড়াই হাজারের বেশি সিনেমা নির্মাণের মাধ্যমে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম চলচ্চিত্রশিল্প কেন্দ্র হিসেবে নিজের জায়গা করে নিয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড অ্যামিনিস্ট্রেশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে বার্ষিক ছবি উৎপাদনের সংখ্যা ভারতের পরের স্থানে রয়েছে। নাইজেরিয়ার বিনিয়োগ উন্নয়ন কমিশনের হিসাবে দেশটির ক্রিয়েটিভ ইকোনমির মূল্য প্রায় ৬.৪ বিলিয়ন ডলার, যার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ নলিউড।
সস্তা প্রযুক্তি ও দ্রুত নির্মাণে শিল্পের পরিবর্তন
একসময় নাইজেরিয়ান সিনেমা বলতে কম বাজেটে দ্রুত নির্মিত ও ঘরোয়া দর্শকদের উপযোগী ভিডিওচিত্রকে বোঝাত। কিন্তু ১৯৯২ সালে ‘লিভিং ইন বন্ডেজ’ সিনেমার সাফল্য আধুনিক নলিউডের যাত্রার শুরু হিসেবে চিহ্নিত হয়। পরবর্তীতে ডিজিটাল ক্যামেরা, সাশ্রয়ী নির্মাণপ্রযুক্তি ও ভিডিওভিত্তিক বিতরণব্যবস্থার প্রসারে শিল্পটি বদলে গেল। এক সময় সপ্তাহে প্রায় ৫০টি সিনেমা নির্মিত হতো, যা নাইজেরিয়াকে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত ফিল্ম সেন্টারে পরিণত করেছে।
গতিপথ বদলেছে উন্নত প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ
গত এক দশকে নলিউডে উন্নত ক্যামেরা, পোস্ট-প্রোডাকশন, আন্তর্জাতিক মানের চিত্রনাট্য ও পেশাদার প্রযোজনের ব্যবহার বাড়ায় ছবির মান ও বিন্দু বিস্তার উভ্যই উন্নত হয়েছে। ফলে নাইজেরিয়ান সিনেমা শুধু দেশীয় দর্শকদের কাছে সীমাবদ্ধ না রেয়ে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ এবং যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপে বসবাসকারী আফ্রিকান প্রবাসীদের মধ্যেও দর্শক খুঁজে পেয়েছে। স্থানীয় গল্প, অভিনেতা ও নির্মাতারা এভাবে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের দর্শকের কাছে নিজেদের পৌঁছে দিতে পেরেছেন।
এই বিস্তারে বড় ভূমিকা রেখেছে ডিজিটাল স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম। নেটফ্লিক্স নাইজেরিয়ার স্থানীয় কনটেন্টে বিনিয়োগ করলেও অ্যামাজন প্রাইম ভিডিও-ও স্থানীয় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও সম্পর্কে কাজ করেছে। তবে সাম্প্রতিক বছরে লাভজনকতার কারণে দুটি স্ট্রিমিং জায়ান্ট আফ্রিকায় অরিজিনাল কনটেন্টে বিনিয়োগ ও কার্যক্রম কিছুটা কমিয়ে আছে। ২০২৪ সালে অ্যামাজন প্রাইম কর্মীসংখ্যা ও কনটেন্ট অধিগ্রহণ সংকুচিত করার পর নেটফ্লিক্সও নাইজেরিয়ার অরিজিনাল কনটেন্ট গ্রহণের গতি কমিয়েছে।
তবে নলিউডের উত্থান থমকে যাচ্ছে বলে ধার করা ভিত্তিহীন। স্ট্রিমিং জায়ান্টদের পশ্চাদপসরণের ফাঁকে ইউটিউব ও স্থানীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম নতুন বিতরণপথ হিসেবে কাজ করছে। অন্যদিকে, দ্রুত মুনাফার তাড়াহুড়ো, পুনরাবৃত্ত গল্প, সীমিত লোকেশন, দুর্বল প্রযোক্তি ও পাইরেসির মতো সমস্যা শিল্পের সম্প্রসারকে বাধা দিচ্ছে। ইউনেসকোর বিশ্লেষণেও নলিউডের দ্রুত বৃদ্ধির পাশাপাশি অর্থায়ন, অবকাঠামো ও বিতরণব্যবস্থার দুর্বলতায় আলো চুঁড়েছে। তবে সংখ্যা, প্রযুক্তি ও ডিজিটাল বিনিয়োগের শক্তিতে নাইজেরিয়া বিশ্বের সিনেমা শিল্পে নিজস্ব প্রভাবশালী অবস্থান ধরে রেখেছে।

-6ab6e811f2495.jpg)
-6ab6fc3012098.jpg)



