রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে শনিবার অনুষ্ঠিত উন্মুক্ত সেমিনারে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষকদের জন্য জাতীয় ন্যূনতম বেতন কাঠামো প্রণয়নের দাবি জানানো হয়েছে। ‘কওমি মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য: একটি জাতীয় সংকটের রূপরেখা’ শিরোনামে আয়োজিত সেমিনারে বক্তারা বেতনের অসম বিভাজন, কর্মপরিবেশের অনিশ্চয়তা এবং পেশাগত সুরক্ষার ঘাটতি নিয়ে আলোচনা করেন।
সেমিনারে শিক্ষকদের নিয়োগ ও কর্মপরিবেশ সংক্রান্ত লিখিত নীতিমালা, পেশাগত প্রশিক্ষণ, ছুটি এবং অন্যান্য মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করারও দাবি ওঠে। বক্তারা বলেন, মাদ্রাসার স্বায়ত্তশাসন ও ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রতি সম্মান রেখেও শিক্ষকদের বেতন, কর্মঘণ্টা ও সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে যুক্তিসঙ্গত ন্যূনতম মানদণ্ড নির্ধারণ করা অপরিহার্য।
বেতন বৈষম্য ও তথ্যের ঘাটতি
সেমিনারে জানানো হয়, বিপুলসংখ্যক কওমি শিক্ষক অত্যন্ত কম বেতনে দীর্ঘ সময় পাঠদান করছেন। অনেক ক্ষেত্রে মাসিক আয় যথেষ্ট না হওয়ায় তাঁদের জীবনযাপনেও কষ্ট হয়। একই সঙ্গে বেতন ও কর্মপরিবেশ সংক্রান্ত নির্ভরযোগ্য জাতীয় তথ্যের অভাব রয়েছে, যার কারণে সমস্যার প্রকৃত আকার নির্ধারণ ও কার্যকর নীতি প্রণয়ন কঠিন হয়ে উঠেছে। বক্তারা এ জন্য দ্রুত একটি জাতীয় জরিপ পরিচালনার আহ্বান জানান।
নারী শিক্ষকদের জন্য পৃথক নীতির দাবি
মহিলা কওমি মাদ্রাসার নারী শিক্ষকদের বেতন ও কর্মপরিবেশ বিশেষভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। সেমিনারে নারী শিক্ষকদের অবস্থা জানতে পৃথক জরিপ পরিচালনা এবং লিঙ্গভিত্তিক বেতন বৈষম্য রোধে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজন তুলে ধরা হয়।
সভাপতিত্ব করেন রুটস অ্যান্ড রুটস ফাউন্ডেশনের প্রধান মাওলানা সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর, আর সেমিনারের আয়োজনে কোনো বক্তার বক্তব্যে বলা হয়, মাদ্রাসা কারও ব্যক্তিগত সম্পদ নয়; সেখানে পাঠদানকারী শিক্ষকরা কোনো ব্যক্তির অনুগ্রহের ওপর নির্ভরশীল কর্মী নন। ঢাকার উত্তরখানের জামিয়া আরাবিয়া নুরুল ইসলামের মহাপরিচালক মাওলানা তোফায়েল গাজালী বলেন, একটি প্রজন্মকে শিক্ষা দেওয়া শিক্ষকদের ন্যায্য মূল্য ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে।



-6ab7f4794192f.jpg)