নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খান জামায়াতে ইসলামী নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। ঝিনাইদহ শিশু কুঞ্জু স্কুল ও কলেজে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, জামায়াত একটি হঠকারী রাজনৈতিক দল যারা সিদ্ধান্তহীনতায় সবসময় ভোগে। তিনি একাত্তির সময় জামায়াতের সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগার ঘটনা তুলে ধরে বলেন যে তৎকালীন দলটি জনগণের পক্ষে অবস্থান করবে নাকি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পক্ষে তা সিদ্ধান্ত নিতে ভুলেছে।
রাশেদ খান আরও বলেন যে জামায়াতের সঙ্গে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক সম্পর্ক নেই। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শরীয়াহ আইন প্রতিষ্ঠার রাজনীতি করে, কিন্তু জামায়াতে ইসলামী মুখে শরীয়াহ আইনের কথা বললেও তারা আসলে মুনাফেকি রাজনীতি করে। এদুটি ইসলামিক দল হলেও মডেল ও মূল্যবোধে পার্থক্য রয়েছে, ফলে একসঙ্গে নির্বাচন করতে পারেনি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ইসলামী আন্দোলনের সমালোচনা ও সরকারের প্রতিক্রিয়া
রাশেদ খান বলেন যে তিনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সম্মানিত আমির সাহেবের সমালোচনাকে সাধুবাদ জানান। তিনি যোগ করেন যে যদি জামায়াতে ইসলামী সরকারের যৌক্তিক সমালোচনা করত তবেও সেটি আমরা স্বাগত জানাতাম। তবে জামায়াত জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে জ্বালানি সংকটকে জাতীয় সংকট হিসেবে চিহ্নিত করে সরকারের প্রচেষ্টায় আলোকপূর্বক সমর্থন দেখায়, আর লংমার্চ করায় তাদের দ্বিচারিতায় জনগণের প্রশ্ন তোলা যায় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তেলের মূর্ত পরিবর্তন ও জ্বালানি সংকট নিয়ে রাশেদ খান বলেন যে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোতে তেলের মূয়াশঙ্কা থাকলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে মূল্য সমন্বয় না করলে জ্বালানি তেল পাচারের আশঙ্কা যুক্ত হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন যে রংপুরে এক হাজার গাড়ি নিয়ে যাওয়ার ঘটনা জ্বালানি সংকটকে আরও ঘনীভূত করা, ফলে নতুন কূপ খনন, গ্যাসের সন্ধান ও নতুন টার্মিনাল নির্মাণ করা প্রয়োজন হয়।
শেষ মন্তব্যে রাশেদ খান বলেন যে আগের তুলনায় এখন লোডশেডিং কম হয়েছে এবং জ্বালানি সংকট দিন যত যাবে তত কমে আসবে। তিনি আশ্বাস দেন যে সরকার জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চালু উদ্যোগগুলো ধারাবাহিকভাবে অগ্রসর করছে।

-6ab52b070d326.jpg)


