ঢাকা মহানগরীর মোহাম্মদপুর থানা এলাকায় গত শনিবার সন্ধ্যায় মোটরসাইকেল সवार দুজন অপরাধীর হাত থেকে একটি শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন ছিনতাই ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৫ থেকে তাকে ৩ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানার শাস্তি দিয়েছে। এটি রাজধানীতে ছিনতাই মামলায় দ্রুত বিচারের একটি নজির সৃষ্টি করেছে বলে আইনজীবীরা মতে রয়েছেন।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীর মতে, গত শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে মোহাম্মদপুরের শহীদ মিনার মোড় এলাকায় কলেজ শিক্ষার্থী রহিম উদ্দিন (২২) তার মোবাইল ফোন দিয়ে কথা বলতে থাকার সময় পেছন থেকে আসা একটি কালো রঙের মোটরসাইকেলে সওয়ার দুজন যুবক হাত থেকে ফোনটি ছিনিয়ে ফরার হয়। ঘটনায় আহত শিক্ষার্থী তৎক্ষণাৎ মোহাম্মদপুর থানায় সাধারণ ডায়রি করিয়ে দেন।
পুলিশের দ্রুত কার্যক্রম
মামলা গ্রহণের সাথে সাথে মোহাম্মদপুর থানা ওসি মো. জামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম গড়ে তোলা হয়। সিসি টিভি ফুটেজ ও গোয়েন্দা শাখার সহায়তায় পুলিশ রাত ১১টার মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত মো. সুমন (২৪) কে শ্যামলী এলাকা থেকে গ্রেফতার করতে পারে। তার পাস থেকে ছিনতাই করা মোবাইল ফোন ও ঘটনায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলও উদ্ধার করা হয়। অন্য অভিযুক্তের সন্ধান চলছে।
দ্রুত বিচার ও শাস্তি
রবিবার সকালে অভিযুক্তকে আদালতে হাজির করা হয়ে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৫-এ মামলা দায়ের করা হয়। বিচারালয় সাক্ষ্যগুলোর ভিত্তিতে অভিযুক্তকে ধারা ৩৭৯/৩৪ আইন অনুযায়ী ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা শাস্তি দিয়ে। জরিমানা না দিলে ৩ মাস অতিরিক্ত কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। বিচারালয় আদেশের অনুকরণীয়তা রেখে পুলিশ অভিযুক্তকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠিয়ে দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
সুপ്രീম কোর্টের অ্যাডভোকেট বরিশালী আহসানুল হক বলেন, "এই ধরণের দ্রুত বিচার অপরাধীদের মনে ভয় সৃষ্টি করবে এবং সাধারণ মানুষের আইনের প্রতি আস্থা বাড়াবে। তবে প্রতিটি মামলায় এমন গতিশীলতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।" মোহাম্মদপুর থানা ওসি মো. জামাল উদ্দিন জানান, "সিসি টিভি নেটওয়ার্ক ও জনসহযোগিতায় এত দ্রুত ফলাফল পাওয়া সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও এতেই দ্রুত কার্যক্রম চালিয়ে যাব।"




