সাম্প্রতি ইন্টারনেটের বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ফটোকার্ডে দাবি করা হয়েছে, যে দেশ ছেড়ে অস্ট্রেলিয়া পালানোর সময় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উমামা ফাতেমাকে পুলিশ আটক করেছে। ফটোকার্ডটিতে আরও দাবি করা হয়, পুলিশ নাকি সরাসরি রানওয়েতে থাকা বিমান থেকে তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসে। এমন দাবিগুলো বিস্তারিত ভাবে পর্যবেক্ষণ করলে এটি মাত্র একটি মিথ্যামন কাহিনী প্রয়োগ করার প্রচেষ্টা ছিল বলে প্রকাশ পায়।
রিউমার স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, উমামা ফাতেমার দেশ ছেড়ে পালানোর সময় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটকের দাবিটি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে, একটি স্যাটায়ার পেজের ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট থেকে সূত্রপাত হওয়া কনটেন্টকে বাস্তব তথ্য হিসেবে দাবি করে প্রচার করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়াটি মূলত ভুয়া খবর ছড়িয়ে দেওয়ার একটি পদ্ধতি ছিল, যা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদানের প্রকৃতির সাথে ঠিক নয়।
ওই দাবিতে প্রচারিত পোস্টগুলো পর্যবেক্ষণ করে দাবির পক্ষে কোনো তথ্যসূত্র পাওয়া যায়নি। বিষয়টি যাচাই করতে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করলেও নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্রে এমন বক্তব্যের প্রমাণ মেলেনি। এই ধরনের খবরগুলো মানুষের মধ্যে ভয় ছড়িয়ে দিতে পারে এবং সমাজিক ঐক্য নষ্ট করতে পারে, যার জন্য গঠনগত তথ্য যাচাইকরণ অপরিহার্য।
আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ফটোকার্ডের সূত্রপাতের বিষয়ে অনুসন্ধানে, ‘Gojobvision’ নামে একটি ফেসবুক পেজে আলোচিত দাবিতে ফটোকার্ডটি পোস্ট হতে দেখা যায়। ‘Gojobvision’ পেজটি পর্যবেক্ষণ করলে এটিকে প্যারোডি/স্যাটায়ার পেজ হিসেবে দাবি করতে দেখা যায়। এছাড়াও, পেজটি পর্যবেক্ষণ করলে এরূপ আরও অনেক ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট পাওয়া যায়।
স্যাটায়ার পেজ থেকে উৎপন্ন মিথ্যা দাবি
এ থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় যে আলোচিত পোস্টটিও মূলত ব্যঙ্গাত্মক কনটেন্ট হিসেবেই তৈরি করা হয়েছে। সুতরাং, উমামা ফাতেমার দেশ ছেড়ে পালানোর সময় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটকের দাবিটি মিথ্যা। এমন মিথ্যা তথ্যের প্রকরণটি বিশ্লেষণ করে দেখা গুরুত্বপূর্ণ যে, ভবিষ্যৎে এমন প্রচারণা প্রতিরোধে সচেতনতা ও তথ্য যাচাইকরণ প্রয়োজন।

-6ab52b070d326.jpg)



