নৈতিক শিক্ষা ও নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে ওঠার প্রত্যাশায় অভিভাবকেরা সন্তানদের মাদ্রাসায় পাঠালেও সেখানে ছেলে শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়ন ও বলাৎকারের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। গত নয় মাসে মাদ্রাসায় যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে ১০৯ শিশু, যা সমাজে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নির্যাতিত শিশুদের বেশিরভাগই বিভিন্ন মাদ্রাসায় আবাসিক বা অনাবাসিক ছাত্র। অনেক ক্ষেত্রে নিপীড়নের শিকার শিশুরা ভয় ও লজ্জার কারণে ঘটনা প্রকাশ করতে পারে না, ফলে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে মনে করছেন শিশু অধিকারকর্মীরা।
শিশু অধিকার বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা ডেইলি বরিশাল-কে জানান, মাদ্রাসার মতো ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশু সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হলে নিয়মিত তদারকি, শিক্ষক নিয়োগে কঠোর যাচাই-বাছাই এবং শিশুদের সচেতন করার পাশাপাশি অভিভাবকদেরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
অভিভাবকদের একাংশ জানান, সন্তানদের নিরাপত্তার বিষয়ে তারা উদ্বিগ্ন। তারা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কাছে শিশুদের জন্য নিরাপদ ও স্বচ্ছ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নির্যাতনের ঘটনায় জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবিও তুলেছেন তারা।
সমাজকর্মী ও মানবাধিকারকর্মীরা সাংবাদিকদের জানান, শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি আইনি সহায়তা ও মানসিক পরামর্শ সেবা নিশ্চিত করতে হবে। তারা বলেন, নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশ্যে আসলে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা জরুরি।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের ঘটনা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। এ বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিশু সুরক্ষা নীতিমালা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছেন তারা।



