শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
৩ঠা আশ্বিন, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

রাজনীতি

আসিফের অভিযোগ: দুদকের তদন্ত রাজনৈতিক প্রতিহিংগা, সিটি নির্বাচনে হারানোর নাটক

জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র ও অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইঁয়া দুদকের তদন্তকে রাজনৈতিকভাবে motivated বলে অভিযোগ করেছেন, তিনি আশঙ্কা করছেন যে এর ফলে আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে তার পরাজয় নিশ্চিত হতে পারে।

রাহুল হাসান· প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫:২৪ পূর্বাহ্ণসর্বশেষ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫:২৪ পূর্বাহ্ণ
আসিফের অভিযোগ: দুদকের তদন্ত রাজনৈতিক প্রতিহিংগা, সিটি নির্বাচনে হারানোর নাটক

দুদকের তদন্ত ও অভিযোগের বিস্তারিত

অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইঁয়া তার বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগের মুখে পড়েছেন। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সূত্রে জানা গেছে, আসিফের বিরুদ্ধে নিয়োগ, বদলি ও পদায়নে কোটি কোটি টাকা লেনদেনের পাশাপাশি বিদেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগগুলো তদন্ত করতে দুদক ইতোমধ্যেই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানা গেছে।

এই অভিযোগের তদন্ত নিয়ে ফেসবুক লাইভে কথা বলার সময় আসিফ মাহমুদ বলেন, এই তদন্তের পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য লুকিয়ে আছে। তার ভাষায়, এই তদন্তের মূল উদ্দেশ্য তাকে হয়রানি করা এবং রাজনৈতিকভাবে ক্ষোভ মেটানো। তিনি আরও বলেন, তদন্তে শেষ পর্যন্ত তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হলেও ততদিনে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের ক্ষতি হয়ে যাবে।

আসিফের রাজনৈতিক অভিযোগ ও নির্বাচনী আশঙ্কা

আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘যদি আমাকে নির্দোষ প্রমাণ করা হয়, ততদিনে পাবলিক পারসেপশনের ক্ষতি হয়ে যাবে। রাজনীতি আসলে পারসেপশনের ওপর চলে। এই পারসেপশনে ক্ষতি করার মধ্য দিয়ে আমার পলিটিক্যাল ক্যারিয়ারকে শেষ করে দেওয়া হবে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে এই ন্যারেটিভের মাধ্যমে তাকে এবং তার পরিবারকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করা হতে পারে।

সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে এই অভিযোগের রাজনৈতিক প্রভাব পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন এনসিপির এই মুখপাত্র। তিনি বলেন, ‘আমি এমন কিছু করি নাই যেটা আমার গণঅভ্যুত্থানের যে আকাঙ্ক্ষা, আমার বাংলাদেশের জনগণের প্রতি যে কমিটমেন্ট, সেটাকে ব্রেক করে, সেটাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। কিন্তু ওই প্রমাণিত হইতে হইতে অনেক দেরি হয়ে যাবে। ততদিনে হয়তো এই ন্যারেটিভ দিয়ে আমি সামনে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন করতে যাচ্ছি, সেখানে আমাকে জনগণের মধ্যে একটা বিভ্রান্তি তৈরি করা হবে, আমাকে হারিয়ে দেওয়া হবে।’

দুদকের অনুসন্ধানকে রাজনৈতিক প্রতিহিংগার অংশ বলে দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমি অনেকের সঙ্গে কথা বলেছি যারা পরিচিত আছে—সরকারের আশেপাশে এবং যারা হয়তো খোঁজখবর রাখেন বিভিন্ন কার্যক্রমের। এবং কথা বলে যেটা আমি বুঝতে পেরেছি, এই বিষয়গুলো রাজনৈতিকভাবে ক্ষোভ মেটানোর জন্যই আমার বিরুদ্ধে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে উচ্চপর্যায়ের কিছু নেতা তার কার্যক্রমে অসন্তুষ্ট হয়ে প্রতিশোধ নিতে এই প্রক্রিয়া চালু করেছেন।

অভিযোগের সংবাদ প্রকাশের ধরন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আসিফ মাহমুদ। তার ভাষায়, এসব অভিযোগকে প্রমাণ করার চেয়ে সংবাদ কনটেন্ট হিসেবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা বেশি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘এটাকে একটা নিউজ কনটেন্ট হিসেবে মোর কনজিউম করানোর একটা চেষ্টা বা একটা প্রচেষ্টা আমরা শুরু থেকে দেখে আসছি।’

বিদেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগের বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘এখানে যেই কথা বলা আছে যে, চার দেশে ১১ হাজার কোটি টাকা—এক টাকা যদি দেশের বাইরে কোথাও পাওয়া যায়, আমি ওই দিনই রাজনীতি ছেড়ে দেবো।’ এই ঘোষণার মাধ্যমে তিনি তার অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করেছেন।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗

রাহুল হাসান

প্রতিবেদক

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, দৈনিক প্রতিদিন। সাংবাদিকতায় ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ