বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
২ঠা আশ্বিন, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

জাতীয়

১৮১ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ: সাবেক আইনমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ১৮১ কোটি টাকা অবৈধভাবে অর্জনের অভিযোগে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে। তদন্তে বলা হয়েছে যে সম্পদ অর্জনের পদ্ধতি ও মালিকানায় গুরুতর অনিয়ম রয়েছে।

রাহুল হাসান· প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫:৩২ পূর্বাহ্ণসর্বশেষ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫:৩২ পূর্বাহ্ণ
১৮১ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ: সাবেক আইনমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে ১৮১ কোটি টাকা অবৈধভাবে অর্জনের অভিযোগে চার্জশিট দাখিল করেছে। সংস্থাটি সোমবার ঢাকার একটি বিশেষ আদালতে এই চার্জশিট দাখিল করে, যেখানে আনিসুলের বিরুদ্ধে সম্পদ অর্জনের পদ্ধতি ও মালিকানায় গুরুতর অনিয়মের উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্তের বিবরণ

দুদকের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে আনিসুল হকের নামে বিদেশে একাধিক অবৈধ হিসাব রয়েছে এবং বাংলাদেশে বিভিন্ন নামে সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলা হয়েছে। সূত্র জানায়, ২০১০ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি দায়িত্বে থাকা সময়কালে সম্পদের সঙ্গে সম্পর্কিত নথিপত্রে গুরুতর ত্রুটি ও স্ববিরোধিতা পাওয়া গেছে। সংস্থাটি আরও জানায় যে আনিসুলের বিরুদ্ধে ১৮১ কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের বিষয়ে প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণ মিলেছে এবং সম্পদের উৎস সম্পর্কে সন্তোষজনক জবাবদিহিতা না থাকায় চার্জশিট দাখিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

চার্জশিটে আনিসুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে যে তিনি জনসাধারণের জন্য সংরক্ষিত সম্পদ থেকে অবৈধভাবে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন, সম্পদ পাচার করেছেন এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন লঙ্ঘন করেছেন। দুদকের আইনজীবীরা বলেছেন যে আনিসুলের সম্পদের পাহাড়ের মধ্যে সম্পত্তি, গাড়ির নথি এবং বিদেশে অর্থ পাচারের প্রমাণ রয়েছে। সংস্থাটি আরও জানায় যে অভিযোগপত্রে আনিসুলের পরিবারের সদস্যদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগ আনা হয়েছে এবং তাদেরও তদন্তের আওতায় আনা হবে।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলেছেন যে সাবেক মন্ত্রীকে আইনের আওতায় আনা দুদকের পক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি, যা দুর্নীতিবিরোধী প্রচেষ্টাকে শক্তিশালী করবে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলেছেন যে এই মামলাটি বাংলাদেশের উচ্চ পর্যায়ে দুর্নীতি মোকাবিলার প্রচেষ্টাকে আরও জোরদার করবে এবং জনগণের মধ্যে সরকারের দুর্নীতি-বিরোধী অঙ্গীকার সম্পর্কে আস্থা বাড়াবে। আইনজীবীরা আরও বলেন যে চার্জশিট দাখিলের ফলে আনিসুলের আইনজীবীদের বিরুদ্ধে একটি দৃঢ় ভিত্তি তৈরি হবে এবং বিচারিক প্রক্রিয়ায় আনিসুলের সম্ভাব্য সাজা আরও বাড়তে পারে।

দুদক সূত্র আরও জানায় যে আনিসুল হকের সম্পদ অর্জনের বিষয়ে চলমান তদন্ত চলবে এবং সম্পদের পাহাড়ের উৎস সম্পর্কে আরও তদন্ত করা হবে। আনিসুলের আইনজীবীরা এখনও এই অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি, তবে তারা বিচারিক প্রক্রিয়া চলাকালীন আনিসুলের নির্দোষিতা প্রমাণের অঙ্গীকার করেছেন। এই মামলাটি ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দুদকের অভিযোগের পর থেকে শুরু হয়েছিল এবং আনিসুল হক ২০২২ সাল পর্যন্ত আইন মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗

রাহুল হাসান

প্রতিবেদক

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, দৈনিক প্রতিদিন। সাংবাদিকতায় ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ