দেশে প্রাথমিকভাবে অনুমোদন পাওয়া ডিজিটাল ব্যাংকের সংখ্যা বেড়ে পাঁচটি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় বিকাশ, বুস্ট-রবি, ডিজিটাল ব্যাংকিং অব ভুটান-ডিকে এবং নোভা ডিজিটাল ব্যাংক-বাংলালিংক অ্যান্ড স্কয়ারকে প্রাথমিক অনুমোদন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরিচালনা পর্ষদের সভায় চারটি প্রস্তাবিত প্রতিষ্ঠানকে লেটার অব ইনটেন্ট, বা এলওআই, প্রদানের অনুমোদন দেওয়া হয়।
আগের দিকে কড়ি ডিজিটাল ব্যাংককে অনুমোদন দেওয়ার পাশাপাশি এবার চারটি নতুন প্রতিষ্ঠান অনুমোদন পাওয়ায় ডিজিটাল ব্যাংকিং খাতে অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের মোট সংখ্যা পাঁচটি দাঁড়িয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। ডিজিটাল ব্যাংক হিসেবে কার্যক্রা পরিচালনার জন্য পরবর্তী নিয়ন্ত্রণগত ও প্রযুক্তিগত শর্ত পূরণ করতে হবে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
ডিজিটাল ব্যাংক স্থাপনের লক্ষ্যে মোট ১২টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছিল। আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্রিটিশ বাংলা ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি, ডিজিটাল ব্যাংকিং অব ভুটান-ডিকে, আমার ডিজিটাল ব্যাংক-২২ এমএফআই, ৩৬ ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি, বুস্ট-রবি, আমার ব্যাংক, অ্যাপ ব্যাংক-ফার্মারস, নোভা ডিজিটাল ব্যাংক-বাংলালিংক অ্যান্ড স্কয়ার, মৈত্রী ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি, উপকারী ডিজিটাল ব্যাংক, মুনাফা ইসলামী ডিজিটাল ব্যাংক-আকিজ এবং বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংক।
আওয়ামী সরকারের আমলে ২০২৩ সালের অক্টোবরে নগদ ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি ও কড়ি ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি নামে দুটি প্রতিষ্ঠানকে ডিজিটাল ব্যাংক হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ ব্যাংক নগদ ও কড়ির ডিজিটাল লাইসেন্স স্থগিত করে। বর্তমান অনুমোদনের তালিকায় কড়ি ডিজিটাল ব্যাংককে আগের অনুমোদনের কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গণ্য করা হলেও নগদের ওপর স্থগিতাদেশ এখনও বিদ্যমান বলে জানা গেছে।
এই অনুমোদনের ফলে দেশের ব্যাংকিং খাতে ডিজিটাল লেনদেন ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে লেটার অব ইনটেন্ট পাওয়া মানেই চূড়ান্ত লাইসেন্স পাওয়া নয়। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যাংকিং নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত শর্ত, প্রযুক্তিগত মান, মানবচকিত্ব ও অর্থায়নসংক্রান্ত বিধান অনুসরণ করে চূড়ান্ত লাইসেন্স প্রাপ্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।



