বিশ্বের বৃহত্তম মুক্তবাণিজ্য জোট ‘রিজিওনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ’ বা আরসিইপিতে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া নতুন ধাপে এগিয়েছে। জোটের বাণিজ্যমন্ত্রীরা বাংলাদেশসহ চিলি, শ্রীলংকা ও হংকংকে সদস্যপদ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নিতে একটি বিশেষ বা অ্যাডহক অ্যাকসেশন ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের সুপারিশ অনুমোদন করেছেন। বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে বৃহস্পতিবার এ সংবাদ জানিয়েছে।
সদস্যপদ প্রদানের কার্যপ্রণালি নির্ধারণ
ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত পঞ্চম আরসিইপি মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে গঠনের সুপারিশে আনুষ্ঠানিক সম্মতি দেওয়া হয়। আরসিইপির নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির রোডম্যাপ অনুযায়ী, গঠিত হবে যে বিশেষ কার্যগূহটি আগ্রহী দেশ ও অঞ্চলগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা পরিচালনা এবং অন্তর্ভুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি কাজ এগিয়ে নেবে। বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে জোটকে উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাণিজ্য কাঠামো হিসেবে বজায় রাখার প্রতি শপথ জানানো হয়েছে।
এলডিসি উত্তরণের পর নতুন চ্যালেঞ্জ
স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের জন্য আরসিইপিতে যুক্ত হওয়ার উদ্যোগ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এলডিসি-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন বাজারে বর্তমান বাণিজ্য সুবিধা ধরে রাখা এবং নতুন বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে বাড়তি প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হতে পারে। তবে জোটে অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ও বিনিয়োগ সুযোগ সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রপ্তানি ও বিনিয়োগে নতুন সম্ভাবনা
আরসিইপিতে সদস্যপদ পেলে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বড় অর্থনীতির সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সংযোগ আরও গভীর হতে পারে। পণ্য রপ্তানি, সরবরাহ ব্যবস্থায় সংযুক্তি, বিনিয়োগ এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে নতুন সুযোগ তৈরির আশা করা হচ্ছে। তৈরি পোশাক, চামড়া ও পাদুকা, কৃষিপণ্য, ওষুধ এবং হালকা প্রকৌশলসহ বিভিন্ন খাতের রপ্তানি বৃদ্ধিতে আঞ্চলিক বাজার গুরুত্বপূর্ণ ভূমি রাখতে পারে।
একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে উপস্থাপনের সুযোগ বাড়বে। আরসিইপিতে চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডসহ আসিয়ানভুক্ত ১০টি দেশও রয়েছে। তবে অন্তর্ভুক্তি এখনো নিশ্চিত নয়—বিশেষ কার্যগূহের কাজ, আনুষ্ঠানিক আলোচনা এবং পরবর্তী অনুমোদনের ওপর চূড়ান্ত ফল নির্ভর করবে।





