ডেঙ্গু জ্বরের প্রান্তিক রোগ বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দেশের পরিস্থিতি আরো ভয়ঙ্কর রূপ নিচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবারের তারিখে ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সর্বমোট ৭ জনের মৃত্যু ঘটেছে। এছাড়া একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ১ হাজার ৫৯৩ জন নতুন করে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন, যা স্বাস্থ্যকর্তাদের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হওয়া রোগীদের বিভাগভিত্তিক বিভাজন নিম্নরূপ—বরিশাল বিভাগে ১৫৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৬৫ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৩৮৩ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৭১ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৩২ জন, খুলনা বিভাগে ২৯০ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৮২ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৩৭ জন, রংপুর বিভাগে ৬৫ জন এবং সিলেট বিভাগে ৯ জন রোগী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্যকর্তারা জানাচ্ছেন, খুলনা ও ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছে, যেখানে রোগ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ১৬৪ জনের মৃত্যু, ৫৫ হাজারেরও বেশি রোগী ভর্তি
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্য মতে, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সর্বমোট ১৬৪ জনের প্রাণহানি হয়েছে। একই সময়ে এই বছর ৫৫ হাজার ১৬৩ জন ডেঙ্গু রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ রোগীর পুনরুদ্ধার হলেও মৃত্যুর হার ধারাবাহিকভাবে কমানো না পারায় স্বাস্থ্যবিদরা চরম উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছেন, ডেঙ্গুর ছড়ানো রোধে জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। মসৃণ পানিতে জন্মানো জীবাণু Aedes aegypti থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য লালচে রঙের পোশাক পরিহিত হওয়া, জালি ব্যবহার করা এবং জল জমানো স্থান পরিষ্কার রাখার উপদেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে ডেঙ্গু রোগের প্রসার রোধে সারা দেশে প্রয়োজনীয় সাবধানতা অবলম্বন করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।






