শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬
২ঠা কার্তিক, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

জাতীয়

ডেঙ্গুতে মৃত্যু দেড় শ ছুঁই ছুঁই: সপ্তাহান্তে মারা যায় আরও ছয়জন

গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ছয়জনের মৃত্য্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ঢাকার বাইরের অঞ্চলের পাঁচজন। সর্বমোট মৃত্যু দাঁড়িয়েছে ১৪৯ জনের।

র
রাহুল হাসান· প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭:০৮ এএমসর্বশেষ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭:০৮ এএম
ডেঙ্গুতে মৃত্যু দেড় শ ছুঁই ছুঁই: সপ্তাহান্তে মারা যায় আরও ছয়জন

বাংলাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ঢাকার বাইরের অঞ্চল থেকে পাঁচজন এবং একজন রাজধানীর বাইরের বিভাগ থেকে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ১৪৯ জনের। আর সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫৬১ জন। দেশে মোট ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৫১ হাজার ৮৩৭ জন।

বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন যে, ডেঙ্গুর প্রকোপ কমানো এবং মশা নিয়ন্ত্রণের কাজ রাজধানীতে যতটা হয়, তা ঢাকার বাইরে খুব কম হয়। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে চট্টগ্রাম ও ঢাকা বিভাগে দুজন করে এবং ময়মনসিংহ বিভাগে একজন ছিলেন। এই প্রবণতা বাড়ছে বলে মনে করছেন তিনি। আগামী দিনে মৃত্যু আরও বাড়তে পারে এমন সতর্কতা জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মুশতাক হোসেন বলেছেন, ডেঙ্গু নিয়ে সরকারি বিশেষ অভিযান অনেক দেরিতে শুরু হলেও এখন চালু হয়েছে। এর ফল পেতে অন্তত তিন মাস অপেক্ষা করতে হবে। তবে মশার প্রকোপ বাড়তে পারে এমন বৃষ্টির মৌসুমে অভিযান আরও আগে থেকে শুরু হলে ভালো হতো। তিনি আহ্বান জানান, ঘরে ঘরে গিয়ে ডেঙ্গুর পরীক্ষা করা জরুরি। জ্বর হলে পরীক্ষা নিশ্চিত করলে মৃত্যু কিছুটা কমানো যেতে পারে। গত শনিবার থেকে তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালু হয়েছে, যা ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে।

চলতি বছরে ঢাকার দুই সিটিতে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ১২ হাজার ৪৭৭ জন, যা মোট আক্রান্তের এক–চতুর্থাংশ। গত আগস্ট মাসটি ছিল সর্বাধিক সংক্রমণকর মাস, যেখানে আক্রান্ত ছিল ২০ হাজার ৫৩৬ জন এবং মৃত্যু হয়েছিল ৪৩ জনের। আর সেই আগস্ট থেকে এ মাসে মৃত্যু বেড়েছে ৫২ জনের। রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ সংক্রমণ হয়েছে ঢাকা বিভাগের অন্য জেলাগুলোতে, যেখানে রোগী ভর্তি হয়েছেন ৩০৭ জন। এরপরই আছে খুলনা বিভাগ, যেখানে গতকাল ২৭৫ জন ভর্তি হয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা আহ্বান জানাচ্ছেন যে, মশা নিয়ন্ত্রণ ও বাসায় বাসায় পরীক্ষার মতো স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম বাড়াতে হবে। জনস্বাস্থ্য বিভাগের প্রচেষ্টা আরও জোরদিয়ে নিতে হবে, বিশেষ করে গ্রীষ্মকালীন বৃষ্টি ও জলাধার জমায়ের সময়। দেশব্যাপী ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে সরকার, স্বেচ্ছাসেবী ও বাজারজাতকদের একত্রে কাজ করতে হবে।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
র

রাহুল হাসান

প্রতিবেদক

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, ডেইলি বরিশাল। সাংবাদিকতায় ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ