আন্তর্জাতিক ফুটবলে বর্তমান সময়র সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে — কে আর্লিং হালান্ডকে থামাবেন? কারও উত্তর না মিললেও, হালান্ড নিজের গোলপ্রবণতায় চর্চা চালিয়ে যাচ্ছেন। নেশনস লিগের এক রোমাঞ্চকর উদ্বোধনী ম্যাচে নরওয়ে ডেনমার্ককে ৩-২ গোলে হারিয়েছে, যেখানে হালান্ড জোড়া গোল করেন।
এই ম্যাচটিতে নরওয়ের প্রথম গোলটি হয়েছে অস্টার ববের নামে। আন্তর্জাতিক ফুটবল ইতিহাসের এই স্ট্রাইকারটি ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে ফুলহামের জার্সিতে ঝলমলে পারফর্ম করেন। ম্যাচের মাত্র ৪ মিনিটের মধ্যে তিনি বক্সের ভেতর থেকে দুর্দান্ত শট দিয়ে প্রথম গোলটি জড়ান।
এরপর আরও চার মিনিট পর হালান্ড আরও একটি গোল করেন। অ্যান্টোনিও নুসার এলাপ্তে বল পাওয়ার পর হালান্ড ডেনমার্কের গোলরক্ষক ফিলিপ ইয়র্গেনসেনকে পরাস্ত করে প্রথম টাচেই বল জালে জড়ান। এই গোলটি ছিল তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ৬৩তম গোল।
তবে ম্যাচের প্রবাহ একটু বদলে যায়। ডেনমার্ক ২৫ গজ দূর থেকে মিকেল ডামসগার্ডের ফ্রি-কিকের মাধ্য্যে ব্যবধান কমান। এর কিছুক্ষণ পরই রাসমুস হয়লুন্ডের হেডে সমতা ফেরান। তবে ম্যাচ যখন হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে পরিণত হয়, ঠিক তখনই আবার জ্বলে ওঠেন হালান্ড। ৭৪ মিনিটে একটি সুপরিকল্পিত কর্নার থেকে বক্সের ভেতর বল পান তিনি এবং শক্তিশালী এক শট দিয়ে রাতের দ্বিতীয় গোলটি করে নরওয়েকে আবার এগিয়ে দেন।
এই গোলটি ছিল হালান্ডের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ৬৪তম গোল, যা তার অসাধারণ গোলদাতা সক্ষমতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। মাত্র ৫৬ ম্যাচে ৬৪ গোল ও ৭টি অ্যাসিস্ট করে তিনি নেশনস লিগের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় শীর্ষ অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছেন। এই সিটি স্ট্রাইকারের গোলসংখ্যা এখন ২১টি, যা সার্বিয়ার আলেক্সান্দার মিত্রোভিচ এবং পর্তুগিজ কিংবদন্তি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর চেয়ে ছয়টি বেশি।
হালান্ডের পারফর্ম্যান্স দেখে বোধহয়, ম্যানচেস্টার সিটির জার্সিতে হোক বা নরওয়ের জার্সিতে, গল্পটা একই থাকছে। তিনি যেন অপ্রতিরোধ্য, আর কোনো দল বা গোলরক্ষক তাকে থামাতে পারচ্ছে না। ভবিষ্যতে আরও মহান্মানব প্রতিযোগিতায় তিনি যেন আরও বেশি গোল করেন — সেটাও দেখা মন্দতোষ।


-6ab75ccf53427.jpg)
