সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬
২৬শে আশ্বিন, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

জান্নাতুল তাজমীনের মর্মান্তিক মৃত্যু: কিশোরীদের নিরাপত্তা, সচেতনতা ও সমাজের দায়িত্ব

সম্পাদকীয়

ট
টি এম তুহিন· প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ৮:৪৫ পিএম
জান্নাতুল তাজমীনের মর্মান্তিক মৃত্যু: কিশোরীদের নিরাপত্তা, সচেতনতা ও সমাজের দায়িত্ব

জান্নাতুল তাজমীনের মতো কোনো কিশোরীর যেন আর এমন পরিণতি না হয়, সে জন্য প্রয়োজন সম্মিলিত উদ্যোগ, সচেতনতা এবং অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান।

কৈশোর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ বয়সে পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি। কোথাও যাতায়াতের সময় আশপাশের পরিস্থিতি খেয়াল রাখা, অপরিচিত ব্যক্তির অস্বাভাবিক আচরণ সম্পর্কে সতর্ক থাকা এবং বিপদের আশঙ্কা দেখা দিলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়া—এসব অভ্যাস আত্মরক্ষায় সহায়ক হতে পারে।

বিশেষ করে একা চলাচলের ক্ষেত্রে কিশোরীদের সতর্ক থাকা, সম্ভব হলে পরিচিত ও নিরাপদ পথে যাতায়াত করা এবং দীর্ঘ বা অপরিচিত পথে যাওয়ার সময় পরিবারের বিশ্বস্ত কাউকে জানিয়ে রাখা ভালো। কোনো ব্যক্তি বা পরিস্থিতি অস্বস্তিকর মনে হলে নিজের অনুভূতিকে গুরুত্ব দিতে হবে এবং প্রয়োজনে বিশ্বস্ত অভিভাবক, শিক্ষক বা অন্য কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তির সহায়তা নিতে হবে।

তবে মনে রাখতে হবে, নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন হওয়া মানে অপরাধের দায় ভুক্তভোগীর ওপর চাপিয়ে দেওয়া নয়। কোনো পোশাক, চলাফেরা, একা বাইরে যাওয়া কিংবা অসতর্কতার অজুহাতে ধর্ষণ বা হত্যার দায় কখনোই ভুক্তভোগীর হতে পারে না। অপরাধের দায় অপরাধীরই।

কিশোরীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কখন ফিরবে এবং প্রয়োজনে কীভাবে সাহায্য চাইবে—এসব বিষয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে খোলামেলা যোগাযোগ থাকা দরকার। একই সঙ্গে সন্তানদের এমন পরিবেশ দিতে হবে, যাতে তারা কোনো বিপদ, হয়রানি কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কথা নির্ভয়ে জানাতে পারে।

কেবল মেয়েদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। ছেলেদেরও ছোটবেলা থেকে নারীর প্রতি সম্মান, সম্মতি, মানবিকতা এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ শেখাতে হবে। পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে যৌন হয়রানি, নির্যাতন এবং সহিংসতার বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

জান্নাতুল তাজমীনের ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইন অনুযায়ী বিচারের আওতায় আনা জরুরি। একই সঙ্গে তদন্তে নিরপেক্ষতা, ভুক্তভোগীর পরিবারের নিরাপত্তা এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে শিশু-কিশোরীদের নিরাপদ যাতায়াত, হয়রানির অভিযোগ গ্রহণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তার ব্যবস্থা আরও কার্যকর করতে হবে। কোথাও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি বা হয়রানির অভিযোগ থাকলে তা অবহেলা না করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

জান্নাতুল তাজমীনের মর্মান্তিক মৃত্যুকে শুধু শোকের ঘটনা হিসেবে দেখলে চলবে না। এই ঘটনা থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে—কীভাবে কিশোরীদের নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন করা যায়, কীভাবে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তাদের পাশে দাঁড়াতে পারে এবং কীভাবে অপরাধ প্রতিরোধে সমাজ আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে পারে।

বাংলাদেশের প্রতিটি কিশোরী যেন নিরাপদে স্কুলে যেতে পারে, নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে পারে এবং ভয়হীন পরিবেশে বেড়ে উঠতে পারে—এটাই হওয়া উচিত আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকার।

কিশোরীদের সতর্কতা প্রয়োজন, কিন্তু তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পুরো সমাজের। ন্যায়বিচার, প্রতিরোধ ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই জান্নাতুল তাজমীনের মতো আর কোনো প্রাণহানি ঠেকানোর পথে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন
ট্যাগ:#বরিশাল

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
ট

টি এম তুহিন

প্রতিবেদক

সাংবাদিকতায় ২৬ বছরের অভিজ্ঞতা