প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক বিধি ভঙ্গের অভিযোগে ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে বড় ধরনের শাস্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ক্লাবটির বিরুদ্ধে আনা ১১৫টি অভিযোগের মধ্যে ১১৪টিতে তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। তবে ঠিক কী ধরনের শাস্তি দেওয়া হবে, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানানো হয়েছে, সম্ভাব্য সব ধরনের শাস্তির পথই খোলা রয়েছে। রায়ের বিরুদ্ধে ম্যানচেস্টার সিটি আপিল করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মামলার সঙ্গে যুক্ত আরেক ব্যক্তি বলেছেন, দীর্ঘ তদন্তের পর ক্লাবটির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর মধ্যে মাত্র একটিতে তারা দায়মুক্তি পেয়েছে।
চার বছর ধরে তদন্ত চলার পর ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রিমিয়ার লিগ আনুষ্ঠানিকভাবে সিটির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে। মামলায় সঠিক আর্থিক তথ্য এবং খেলোয়াড় ও কোচদের পারিশ্রমিকের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশে ব্যর্থতার অভিযোগ রয়েছে। এর পাশাপাশি উয়েফা ফাইন্যান্সিয়াল ফেয়ার প্লে বা এফএফপি এবং লিগের ‘প্রফিটেবিলিটি অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি’ বা পিএসআর নীতিমালা ভঙ্গের অভিযোগও অন্তর্ভুক্ত।
ম্যানচেস্টার সিটি অবশ্য প্রিমিয়ার লিগের আইনি কার্যক্রম এখনো চলমান বলে জানিয়েছে। ক্রীড়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য অ্যাথলেটিককে দেওয়া বিবৃতিতে ক্লাবটির মুখপাত্র বলেন, গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ধাপ এখনো বাকি এবং পুরো বিষয়টি কঠোর গোপনীয়তার মধ্যে রয়েছে। গত আট বছর ধরে আইনি প্রক্রিয়া সম্মান করে আসার পাশাপাশি লিগ বোর্ড ও নির্বাহী কর্তৃপক্ষকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও নিরপেক্ষ নিয়ন্ত্রক হিসেবে দেখার দাবিও জানিয়েছে সিটি।
অভিযোগের ইতিহাস ২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে সিটির আর্থিক বিধি লঙ্ঘনের তদন্ত এবং ২০১৮ সালের নভেম্বরে জার্মান সংবাদমাধ্যম ডের স্পিগেল প্রকাশিত ফাঁস হওয়া আর্থিক নথির সঙ্গে যুক্ত। এর আগে ২০২০ সালে উয়েফা সিটিকে দুই বছরের জন্য ইউরোপীয় প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ করে ৩ কোটি ইউরো জরিমানা করলেও পাঁচ মা পর ক্রীড়া সালিসি আদালত সেই নিষেধাজ্ঞা বাতিল করে দেয়। সিটি সবসময়ই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে এবং নিরপেক্ষ পর্যালোচনার দাবি জুড়ে রেখেছে।

-6ab75ccf53427.jpg)
