বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) র্যাগিংয়ের ঘটনায় চার বিভাগের ৪৮ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার ও অর্থদণ্ড দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. আবদুল আলিম বছির স্বাক্ষরিত পৃথক নোটিশের মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৫ জুলাই র্যাগিংয়ে জড়িত থাকার অভিযোগে আইন বিভাগের পাঁচজন, ১৯ আগস্টের ঘটনায় মার্কেটিং বিভাগের ১৯ জন, ৯ আগস্টের ঘটনায় কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৪ জন এবং ২২ জুলাই রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে র্যাগিংয়ের ঘটনায় ১০ জন শিক্ষার্থীকে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে।
গত ২০ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বোর্ডের সভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অপরাধের মাত্রা বিবেচনায় এসব শাস্তি দেওয়া হয়।
শাস্তিপ্রাপ্ত ৪৮ শিক্ষার্থীর মধ্যে কয়েকজনকে এক বছর বহিষ্কার বা ২০ হাজার অর্থদন্ড, কয়েকজনকে ছয় মাসের বহিষ্কার বা ১৫ হাজার অর্থদন্ড করা হয়েছে। এছাড়া অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী ২০ হাজার, ১৫ হাজার ও ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড ও দেওয়া হয়েছে।
পত্রে উল্লেখ করা হয়, জরিমানা পরিশোধের সময়সীমা পত্র ইস্যুর তারিখ থেকে এক মাস। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জরিমানা পরিশোধে ব্যর্থ হলে দ্বিগুণ হারে জরিমানা প্রযোজ্য হবে।
এ বিষয়ে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. রাহাত হোসাইন ফয়সল বলেন, ‘তিনটি ক্যাটাগরিতে শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে—বহিষ্কার অথবা নির্দিষ্ট পরিমাণ জরিমানা। শিক্ষার্থীরা যেন ভুল শুধরে নেওয়ার সুযোগ পায়, সেজন্য প্রথমবার জরিমানার বিকল্প রাখা হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে এমন অপরাধের ক্ষেত্রে সরাসরি বহিষ্কারাদেশ কার্যকর হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন, ‘মোট ৪৮ জন শিক্ষার্থীকে র্যাগিংয়ের ঘটনায় শাস্তি দেওয়া হয়েছে। অবশ্যই শাস্তিগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। র্যাগিংয়ের বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে।
তিনি আরও বলেন, ‘প্রত্যেকটি বিভাগে তদন্ত কমিটি গঠনের জন্য আমরা চিঠি পাঠিয়েছি এবং তারা আমাদের সঙ্গে সহযোগিতা করছে। প্রাথমিকভাবে চারটি বিভাগ তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছে। ওই চার বিভাগের শিক্ষার্থীদের শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। আরেকটি বিভাগ তদন্ত প্রতিবেদনে শিক্ষার্থীদের নাম উল্লেখ না করায় তাদের পুনরায় তদন্ত করতে বলা হয়েছে। পুনরায় তদন্ত প্রতিবেদনে নামসহ তথ্য জমা দিলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে গবেষণা ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়ে প্রক্টর বলেন, ‘ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা না ঘটে, সেজন্য আমরা গবেষণা করে দেখার চেষ্টা করছি। আশা করা যায়, এটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারব।



