একই দাগে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি ও খাসজমি থাকলে ব্যক্তিমালিকানাধীন অংশের নামজারি করা গেলেও খাসজমিতে কোনো মালিকানা তৈরি হবে না। খাস বা সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট জমির অংশে নামজারির মাধ্যমে স্বত্ব, দখল বা অন্য কোনো আইনগত অধিকারও তৈরি হবে না।
সম্প্রতি ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে একই দাগে ব্যক্তিমালিকানাধীন ও খাসজমি থাকলে সীমানা নির্ধারণ করে ব্যক্তিমালিকানাধীন অংশের নামজারি করার কথা বলা হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো দাগে সরকারি খাসজমি এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি পাশাপাশি থাকলে শুধু দাগ নম্বরের ভিত্তিতে পুরো জমি নামজারি করা যাবে না। বরং সরেজমিন তদন্ত, রেকর্ডপত্র, মৌজা ম্যাপ ও সংশ্লিষ্ট দলিল যাচাই করে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির সীমানা নির্ধারণ করতে হবে। এরপর ওই অংশের নামজারি করা যাবে।
একই দাগে খাসজমি থাকলে তা পৃথকভাবে চিহ্নিত ও সংরক্ষণ করতে হবে। ব্যক্তিমালিকানাধীন অংশের নামজারি হলেও এর ফলে খাসজমির ওপর আবেদনকারী বা কোনো ব্যক্তির মালিকানা, দখল কিংবা স্বত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে না।
ভূমি-সংক্রান্ত জটিলতা ও সরকারি জমি নিয়ে বিরোধ এড়াতে এ বিষয়ে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নামজারির সময় জমির প্রকৃতি, রেকর্ড ও মালিকানার বিষয়গুলো যথাযথভাবে যাচাই করে সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়েছে।
এর ফলে একই দাগে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি ও খাসজমি থাকলেও শুধু নামজারি বা রেকর্ড সংশোধনের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সরকারি জমির ওপর ব্যক্তিমালিকানা প্রতিষ্ঠার সুযোগ থাকবে না।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের আইন-৩ শাখা থেকে গত ২৮ সেপ্টেম্বর একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, কোনো দাগের আংশিক ভূমি ব্যক্তিমালিকানাধীন এবং আংশিক ভূমি খাস বা সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট থাকা অবস্থায় পুরো দাগের ভিত্তিতে ব্যক্তিমালিকানাধীন ভূমির নামজারি আবেদন গ্রহণ, অনুমোদন ও ভূমি উন্নয়ন কর আদায় করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
পরিপত্রে বলা হয়, এক বা একাধিক দাগে খাস বা সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট ভূমি এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন ভূমি একত্রে থাকলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) তা পৃথকভাবে চিহ্নিত করার ব্যবস্থা করবেন।
এ ক্ষেত্রে সাবেক ও হাল রেকর্ড, দাগসূচি, মৌজা ম্যাপ, মালিকানার ধারাবাহিকতা এবং সংশ্লিষ্ট মালিকদের দলিলপত্র পর্যালোচনা করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট ও ব্যক্তিমালিকানাধীন ভূমির পৃথকীকরণ সরেজমিনে ও বাস্তবভিত্তিকভাবে করতে হবে।
পরিপত্র অনুযায়ী, নামজারির আবেদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ভূমি সহকারী কর্মকর্তা বা ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা তদন্ত করে প্রতিবেদন দেবেন। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) তার আওতাধীন কানুনগো বা সার্ভেয়ারকে দিয়ে সরেজমিন তদন্ত করাবেন।
এ সময় স্বার্থসংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর উপস্থিতিতে সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট ও ব্যক্তিমালিকানাধীন ভূমি পৃথকভাবে চিহ্নিত করে যৌথ স্বাক্ষরিত খসড়া নকশা প্রস্তুত করতে হবে।
প্রয়োজনে শুনানি গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট রেকর্ড, দাগসূচি, মৌজা ম্যাপ, মালিকানার ধারাবাহিকতা ও দলিলপত্র পর্যালোচনা করে ব্যক্তিমালিকানাধীন অংশের নামজারি অনুমোদন ও ভূমি উন্নয়ন কর আদায় করা যাবে।




